ছবি-যাযাদি ঢাকায় নিজ কক্ষে রাকিব নামে এক যুবককে হত্যার পর তার মরদেহ কার্টনে ভরে নীলফামারীর ডিমলায় নিয়ে মাটিচাপা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। হত্যার ঘটনা গোপন রাখতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) প্রযুক্তি ব্যবহার করে রাকিব জীবিত আছেন—এমন ভিডিও তৈরি করে পরিবারের সদস্যদের কাছে পাঠানো হয়। ওই ভিডিও দেখিয়ে কয়েক দফায় মুক্তিপণের টাকাও নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।রাকিবকে জীবিত ফিরে পাওয়ার আশায় পরিবারের সদস্যরা একাধিকবার টাকা দিলেও তাকে আর ফেরত পাননি। একপর্যায়ে তাদের সন্দেহ হলে ঢাকার সংশ্লিষ্ট থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। সেই জিডির সূত্র ধরে তদন্তে নামে পুলিশ।
তদন্তের একপর্যায়ে ঢাকায় অভিযান চালিয়ে মামুন নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তার কাছ থেকে রাকিবের নিখোঁজ হওয়া এবং মরদেহের অবস্থান সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়ার দাবি করেছে পুলিশ।
পরে মামুনকে নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার ছাতনাই ইউনিয়নের বালাপাড়া এলাকায় নেওয়া হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সেখানে একটি স্থান শনাক্ত করা হয়। পরে ওই স্থান থেকে রাকিবের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকায় হত্যার পর রাকিবের মরদেহ একটি কার্টনের মধ্যে রাখা হয়। এরপর সেটি নীলফামারীর ডিমলায় নেওয়া হয়। পরে ছাতনাই ইউনিয়নের বালাপাড়া এলাকায় মরদেহটি মাটিচাপা দেওয়া হয় বলে প্রাথমিক তদন্তে তথ্য পাওয়া গেছে।
তবে ঢাকায় হত্যার পর কীভাবে মরদেহ ডিমলায় নেওয়া হলো, কারা এতে সহযোগিতা করেছে এবং মরদেহ মাটিচাপা দেওয়ার সময় অন্য কেউ উপস্থিত ছিল কি না—এসব বিষয় খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
তদন্তে সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য হিসেবে উঠে এসেছে AI প্রযুক্তির ব্যবহার। রাকিবকে হত্যার পরও তিনি জীবিত আছেন—পরিবারের কাছে এমন বিশ্বাস তৈরি করতেই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে একটি ভিডিও তৈরি করা হয়েছিল বলে অভিযোগ।ওই ভিডিও পরিবারের সদস্যদের কাছে পাঠিয়ে রাকিবকে জীবিত দেখানোর চেষ্টা করা হয়। পরে তাকে ফিরিয়ে দেওয়ার কথা বলে পরিবারের কাছ থেকে কয়েক দফায় মুক্তিপণের টাকা নেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
তদন্তকারীরা এখন খতিয়ে দেখছেন, ভিডিওটি কে বা কারা তৈরি করেছে, কী ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে এবং এতে আরও কেউ সহযোগিতা করেছে কি না। একই সঙ্গে মুক্তিপণের টাকা কোন মাধ্যমে নেওয়া হয়েছে এবং অর্থের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের সম্পর্কেও তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।
রাকিব নিখোঁজ হওয়ার পর পরিবারের সদস্যরা প্রথমে তাকে জীবিত ফিরে পাওয়ার আশায় অপেক্ষা করছিলেন। মুক্তিপণের টাকা দেওয়ার পরও তার সন্ধান না পাওয়ায় তাদের সন্দেহ বাড়তে থাকে। পরে তারা থানায় জিডি করেন।
ওই জিডির সূত্র ধরে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। প্রযুক্তিগত তথ্য ও বিভিন্ন সূত্রের ভিত্তিতে তদন্ত এগিয়ে নেওয়ার একপর্যায়ে মামুনের নাম সামনে আসে। পরে তাকে গ্রেপ্তার করা হলে জিজ্ঞাসাবাদে রাকিবের মরদেহের অবস্থান সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যায় বলে দাবি পুলিশের।
মরদেহ উদ্ধারের পর ঘটনাটি আরও গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। মরদেহের ময়নাতদন্তের মাধ্যমে মৃত্যুর কারণ ও সময় সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়ার আশা করছেন তদন্তসংশ্লিষ্টরা।
একই সঙ্গে ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। এসব আলামত হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে কতটা সম্পর্কিত, তা পরীক্ষা করে দেখা হবে।
তদন্তকারীরা বলছেন, শুধু হত্যাকাণ্ড নয়, মরদেহ গুম, মুক্তিপণের অর্থ আদায় এবং AI প্রযুক্তি ব্যবহার করে পরিবারকে বিভ্রান্ত করার অভিযোগ—সবগুলো বিষয়কে সামনে রেখেই তদন্ত চলছে।
রাকিব হত্যাকাণ্ডে মামুনের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না, হত্যার উদ্দেশ্য কী ছিল এবং মুক্তিপণের পুরো অর্থ কারা নিয়েছে—এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে পুলিশ।
তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ঘটনায় অন্য কারও সম্পৃক্ততা বা হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত উদ্দেশ্য সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না। তবে মরদেহ উদ্ধারের পর তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।