প্রতীকী ছবিরংপুরের গঙ্গাচড়ায় শিশুদের খেলাধুলাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধের জেরে লাভলী বেগম নামে এক গৃহবধূকে কুপিয়ে জখম ও বসতবাড়িতে ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। হামলায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতে মাথায় গুরুতর জখম হন তিনি। পরে তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
ঘটনাটি উপজেলার আলমবিদিতর ইউনিয়নের খামার মোহনা (দর্জিপাড়া) এলাকায়। এ ঘটনায় আহত লাভলীর স্বামী জিয়ারুল গঙ্গাচড়া মডেল থানায় মামলা করেছেন। মামলার নম্বর এক, জিআর-২৮২/২০২৬।
মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ২৮ সেপ্টেম্বর বিকেলে জিয়ারুলের বাড়ির উঠানে তার আড়াই বছর বয়সী নাতি ও প্রতিবেশী শিশু আব্দুল্লাহর মধ্যে খেলাধুলা নিয়ে ঝগড়া হয়। একপর্যায়ে আব্দুল্লাহর চোখ-মুখে ধুলাবালি দেওয়ার ঘটনা ঘটে। এ নিয়ে লাভলী বেগমের সঙ্গে রোকছেনার কথা-কাটাকাটি হয়।
অভিযোগে বলা হয়েছে, এর কিছুক্ষণ পর রোকছেনা, তার স্বামী কুদ্দুস ও শ্বশুর ছপির আলী দা, লাঠি ও লোহার রড নিয়ে জিয়ারুলের বাড়িতে প্রবেশ করেন। তারা লাভলী বেগমকে এলোপাতাড়ি মারধর করেন। একপর্যায়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার মাথায় আঘাত করা হলে তিনি রক্তাক্ত জখম হন।
এ ছাড়া লাভলীকে চুলের মুঠি ধরে টেনেহিঁচড়ে শ্লীলতাহানি এবং গলা চেপে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে বলেও মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে উদ্ধার করে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, ঘটনার পর অভিযুক্তরা জিয়ারুল ও তার পরিবারের সদস্যদের প্রাণনাশ এবং বাড়িঘরে হামলার হুমকি দেন। পাশাপাশি বাড়ির বেড়া ভাঙচুর করে প্রায় ২৫ হাজার টাকার ক্ষতি করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
লাভলীর স্বামী জিয়ারুল বলেন, ঘটনার সময় তিনি বাড়িতে ছিলেন না। খবর পেয়ে দ্রুত বাড়িতে এসে জানতে পারেন, শিশুদের খেলাধুলাকে কেন্দ্র করে তার স্ত্রী লাভলী প্রতিবেশী শিশু আব্দুল্লাহকে বকাবকি করেছিলেন। পরে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে অভিযুক্তরা বাড়িতে ঢুকে তার স্ত্রীকে একা পেয়ে মারধর ও শ্লীলতাহানি করেন এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে মাথায় আঘাত করেন।
জিয়ারুল বলেন, তার স্ত্রীর মাথায় ২৩ থেকে ২৪টি সেলাই দেওয়া হয়েছে। ঘটনার পর এক অক্টোবর তিনি থানায় মামলা করেন। মামলা করার পরও আসামিরা গ্রেপ্তার না হওয়ায় তারা বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
জিয়ারুল আরও অভিযোগ করেন, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার অনুপস্থিতিতে আসামিরা রোগীর স্বজন পরিচয়ে গিয়ে বিভিন্ন অজুহাতে লাভলীর নাম কেটে দেওয়ার জন্য চিকিৎসকদের বলেন। পরে এক অক্টোবর হাসপাতাল থেকে তার নাম কেটে দেওয়া হয়। বিষয়টি জানতে চাইলে হাসপাতালের এক ব্যক্তি জানান, বাড়ি থেকে চিকিৎসা নেওয়ার কথা জানানোয় নাম কেটে দেওয়া হয়েছে।
জিয়ারুলের দাবি, বর্তমানে তার স্ত্রীর মাথার সেলাইয়ের গোড়ায় পুজ দেখা দিয়েছে। ফলে তাকে আবার হাসপাতালে নিতে হবে। তিনি বলেন, আর্থিকভাবে অসচ্ছল হওয়ায় চিকিৎসার ব্যয় বহন করাও তার জন্য কষ্টকর। আসামিরা প্রভাবশালী হওয়ায় তাদের গ্রেপ্তার না হওয়ায় পরিবারের সদস্যরা ভয়ভীতির মধ্যে রয়েছেন।
এ বিষয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মশিউর রহমান বলেন, আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।