রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের মধ্যে কৃষ্ণসাগরে ড্রোন হামলা, বুলগেরিয়ার কাছে জাহাজ ডুবে নিখোজ নাবিকরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

ন্যাটো সদস্য বুলগেরিয়ার উপকূলের কাছে কৃষ্ণসাগরে ড্রোন হামলার পর একটি বাণিজ্যিক জাহাজ ডুবে গেছে। এতে জাহাজটির কয়েকজন নাবিক নিখোজ রয়েছেন।

2026-10-06T18:10:04+06:00
2026-10-06T18:10:04+06:00
বুধবার ● ৭ অক্টোবর ২০২৬
২২ আশ্বিন ১৪৩৩
শিরোনাম:
আন্তর্জাতিক
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের মধ্যে কৃষ্ণসাগরে ড্রোন হামলা, বুলগেরিয়ার কাছে জাহাজ ডুবে নিখোজ নাবিকরা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:১০ পিএম  
ছবি: রয়টার্স
ন্যাটো সদস্য বুলগেরিয়ার উপকূলের কাছে কৃষ্ণসাগরে ড্রোন হামলার পর একটি বাণিজ্যিক জাহাজ ডুবে গেছে। এতে জাহাজটির কয়েকজন নাবিক নিখোজ রয়েছেন। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বুলগেরিয়ার পূর্বাঞ্চলীয় উপকূলীয় শহর বায়ালার প্রায় ১১২ কিলোমিটার দূরে এ হামলা হয়। বুলগেরিয়ার প্রধান মন্ত্রী রুমেন রাদেভ ঘটনাটিকে আন্তর্জাতিক আইনের ‘গুরুতর লঙ্ঘন’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

হামলাটি আকাশ ও সমুদ্রপথের ড্রোন দিয়ে চালানো হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে কারা এ হামলা চালিয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ইউক্রেনে রাশিয়ার চলমান যুদ্ধের মধ্যে ইউরোপজুড়ে রাশিয়ার ‘হাইব্রিড হামলা’ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। জাহাজ চলাচলসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, বুলগেরিয়ার জলসীমায় এ ধরনের হামলা এটাই প্রথম বলে মনে করা হচ্ছে।

টেলিভিশনে দেওয়া এক বিবৃতিতে রুমেন রাদেভ বলেন, হামলায় দুটি জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে একটি শস্যবাহী জাহাজের নাবিকদের উদ্ধার করা হয়েছে। তবে তাদের দুজন আহত হয়েছেন। অন্য জাহাজটি ডুবে গেছে। টোগোর পতাকাবাহী ওই জাহাজটির নাম বা পণ্যবাহী কার্গোর বিস্তারিত তাৎক্ষণিকভাবে জানানো হয়নি।

নিখোজ নাবিকদের সন্ধানে তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে বুলগেরীয় কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে হামলার ফলে পরিবেশগত কোনো হুমকি তৈরি হয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

একটি সামুদ্রিক নিরাপত্তা সূত্র জানিয়েছে, হামলার প্রাথমিক মূল্যায়নে এটি রাশিয়ার চালানো হামলা হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি বলে ধারণা করা হচ্ছে।

রুমেন রাদেভ হামলার জন্য সরাসরি কাউকে দায়ী করেননি। তবে ইউক্রেনে রাশিয়ার যুদ্ধের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, এই যুদ্ধ যদি সময়মতো বন্ধ করা না হয়, তাহলে এটি ভৌগোলিকভাবে আরও বিস্তৃত হবে এবং বৈশ্বিক সংঘাতের ঝুঁকি বাড়াবে।

তিনি আরও বলেন, আমরা যুদ্ধের তীব্রতা বাড়তে দেখছি। আন্তর্জাতিক আইনের সব নিয়ম এখন লঙ্ঘিত হচ্ছে এবং সমুদ্রে বেসামরিক জাহাজে হামলা চালানো হচ্ছে। এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

ঘটনা নিয়ে রাশিয়ার পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

ব্রিটিশ সামুদ্রিক ঝুকি ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান ভ্যানগার্ড জানিয়েছে, মঙ্গলবারের হামলার শিকার দুটি জাহাজ হলো টোগোর পতাকাবাহী সাধারণ পণ্যবাহী জাহাজ আলফা ওয়াতান (ALFA WATAN) এবং পালাউয়ের পতাকাবাহী সাধারণ পণ্যবাহী জাহাজ এবল (ABLE)। বুলগেরিয়ার অর্থনৈতিক অঞ্চলের মধ্যে জাহাজ দুটিতে হামলা হয় বলে প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে।

ভ্যানগার্ডের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, হামলার পর উভয় জাহাজ থেকেই বিপদসংকেত পাঠানো হয়েছিল। বুলগেরিয়ার বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে, জাহাজ দুটিতে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছিল।

এর আগে সোমবার রোমানিয়ার জলসীমার বাইরে কৃষ্ণসাগরে একটি জাহাজে আগুনের ঘটনায় দুইজনের মৃত্যু এবং ১১ জনকে উদ্ধারের কথা জানিয়েছিল রোমানিয়ার কর্তৃপক্ষ। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ওই ঘটনায় রুশ ড্রোনকে দায়ী করেছিলেন। তবে রাশিয়ার পক্ষ থেকে তখনও তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করা হয়নি।

২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরুর পর ইউরোপের বিভিন্ন দেশ তাদের আকাশসীমায় একাধিকবার রুশ ড্রোন প্রবেশের খবর জানিয়েছে। একই সময়ে কৃষ্ণসাগরে বাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহনপথে ভাসমান মাইনের উপস্থিতির খবরও পাওয়া গেছে।
  বিষয়:   বুলগেরিয়া  কৃষ্ণসাগর  ড্রোন হামলা  রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ 


আন্তর্জাতিক- এর আরোও খরব 
সম্পাদক ও প্রকাশক : শফিক রেহমান
অফিস:
যায়যায়দিন মিডিয়াপ্লেক্স
৪৪৬ ই+এফ+জি তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল, ঢাকা ১২০৮
ইমেইল : [email protected]
বিভাগীয় ফোন:
অনলাইন নিউজ- ০১৩৩৫১০৭৭০১, ০১৫৭২১৭৩৭৭৭
বিজ্ঞাপন বিভাগ- ০১৯১২২৯২৩১৩, ০১৭১১১৭৫৩৩১
সার্কুলেশন বিভাগ- ০১৭১২৩৮০৩২৫, ০১৮৩৪৮০০৮৭৭
© ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত