বাংলাদেশে লোটোর ১৫ বছর পূর্তি: কাপাসিয়া, গাজীপুরে নতুন উৎপাদন কারখানার যাত্রা শুরু

যাযাদি রিপোর্ট

নগর-মহানগর

বাংলাদেশের স্পোর্টি লাইফস্টাইল ব্র্যান্ড হিসেবে বিখ্যাত লোটো বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক মানের ফুটওয়্যার, অ্যাপারেল ও অ্যাকসেসরিজ দেশজুড়ে কাস্টমারদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ১৫

2026-10-08T17:55:15+06:00
2026-10-08T17:55:15+06:00
বৃহস্পতিবার ● ৮ অক্টোবর ২০২৬
২৩ আশ্বিন ১৪৩৩
শিরোনাম:
নগর-মহানগর
বাংলাদেশে লোটোর ১৫ বছর পূর্তি: কাপাসিয়া, গাজীপুরে নতুন উৎপাদন কারখানার যাত্রা শুরু
যাযাদি রিপোর্ট
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:৫৫ পিএম  
ছবি-যাযাদি
বাংলাদেশের স্পোর্টি লাইফস্টাইল ব্র্যান্ড হিসেবে বিখ্যাত লোটো বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক মানের ফুটওয়্যার, অ্যাপারেল ও অ্যাকসেসরিজ দেশজুড়ে কাস্টমারদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ১৫ বছরের পথচলা পূর্ণ করেছে। এই বিশেষ মাইলফলক উপলক্ষে সম্প্রতি ঢাকার গুলশান ক্লাবে এক ‘মিডিয়া গেট-টুগেদার’-এর আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিনিধি, ব্যবসায়িক অংশীদার এবং লোটো বাংলাদেশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত থেকে ব্র্যান্ডটির দীর্ঘ ১৫ বছরের অগ্রযাত্রা, অর্জন এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন।

বাংলাদেশে যাত্রা শুরুর পর গত দেড় দশকে লোটো শুধু একটি আন্তর্জাতিক স্পোর্টস ও লাইফস্টাইল ব্র্যান্ড হিসেবেই নিজের অবস্থান সুদৃঢ় করেনি, বরং দেশের শহর থেকে অঞ্চল—সব পর্যায়ের ভোক্তাদের কাছে পণ্য পৌঁছে গড়ে তুলেছে বিস্তৃত একটি রিটেইল নেটওয়ার্ক। বর্তমানে সারা দেশে লোটোর ১৩৭টি ফ্ল্যাগশিপ এবং ১১০টি ফ্র্যাঞ্চাইজিসহ মোট ২৪৭টি আউটলেট রয়েছে। এই দীর্ঘ পথচলায় লোটো ইতোমধ্যেই ১ কোটিরও বেশি সন্তুষ্ট গ্রাহকের আস্থা অর্জন করেছে।

নিত্যনতুন পণ্য, প্রযুক্তিনির্ভর আরাম, উন্নত ক্রেতা-অভিজ্ঞতা এবং দীর্ঘমেয়াদি ব্যবসায়িক উন্নয়নকে সামনে রেখে লোটো বাংলাদেশ আগামী দিনেও দেশের স্পোর্টি লাইফস্টাইল মার্কেটে তার কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করার লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে।

উদ্ভাবন ও প্রযুক্তিতে লোটোর অগ্রযাত্রা

লোটো বাংলাদেশের পণ্য উন্নয়নের অন্যতম ভিত্তি হলো উদ্ভাবন, আরাম ও কার্যকারিতা। দৈনন্দিন জীবন থেকে শুরু করে স্পোর্টস ও অ্যাকটিভ লাইফস্টাইল—বিভিন্ন প্রয়োজন বিবেচনায় রেখে প্রতিষ্ঠানটি তার ফুটওয়্যার ও অ্যাপারেলে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার করে আসছে।

লোটোর পণ্যে ব্যবহৃত উল্লেখযোগ্য প্রযুক্তির মধ্যে রয়েছে Adapto Memory Foam (AMF), যা পায়ের গঠন অনুযায়ী আরামদায়ক কুশনিং ও উন্নত কমফোর্ট দিতে সহায়তা করে। EasyFit Technology জুতাকে আরও সহজে ও স্বাচ্ছন্দ্যে পরিধানের উপযোগী করে তৈরি করা হয়েছে, যাতে দৈনন্দিন ব্যবহারে আরাম ও ব্যবহারিক সুবিধা নিশ্চিত হয়। অন্যদিকে Boost Outsole Technology উন্নত কুশনিং, ফ্লেক্সিবিলিটি ও দৈনন্দিন দৌড় বা চলাফেরায় কার্যকর সাপোর্ট দেওয়ার লক্ষ্যে তৈরি।
লোটো বাংলাদেশের বিশ্বাস, আধুনিক সময়ের গ্রাহক শুধু একটি পণ্য কেনেন না; তারা খোঁজেন এমন এক অভিজ্ঞতা, যেখানে ডিজাইন, প্রযুক্তি, আরাম ও নির্ভরযোগ্যতা একসঙ্গে মিলিত হয়। সেই দর্শন থেকেই প্রতিনিয়ত নতুন প্রযুক্তি ও পণ্য উন্নয়নে বিনিয়োগ করে যাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।

কাপাসিয়া, গাজীপুরে আধুনিক কারখানা

১৫ বছর পূর্তির এই বিশেষ সময়ে লোটো বাংলাদেশের অগ্রযাত্রায় যুক্ত হয়েছে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়—গাজীপুরের কাপাসিয়ায় নতুন আধুনিক উৎপাদন কারখানার উদ্বোধন।

নতুন এই কারখানা প্রতিষ্ঠানটির উৎপাদন সক্ষমতা, গুণগত মান, দক্ষতা ও প্রযুক্তিনির্ভর শিল্পায়নের প্রতি দীর্ঘমেয়াদি অঙ্গীকারের প্রতিফলন। এখানে TPR, EVA, PU ও PVC-ভিত্তিক স্পোর্টস ও লেদার ফুটওয়্যার উৎপাদনের জন্য আধুনিক অবকাঠামো, দক্ষ জনবল এবং উন্নত উৎপাদনব্যবস্থার সমন্বয় করা হয়েছে। নতুন কারখানাটি শুধু দেশের বাজারের জন্য উচ্চমানের ফুটওয়্যার ও অ্যাপারেল উৎপাদনের সক্ষমতাই বাড়াবে না, বরং আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের উৎপাদন সক্ষমতাকে আরও শক্তিশালী করার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছে প্রতিষ্ঠানটি।

লোটো বাংলাদেশের মতে, দেশের দক্ষ ও পরিশ্রমী জনশক্তি, প্রতিযোগিতামূলক উৎপাদনব্যবস্থা এবং আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখার সক্ষমতার কারণে বাংলাদেশ বৈশ্বিক ব্র্যান্ডগুলোর উৎপাদনকেন্দ্র হিসেবে আরও বড় সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে। আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডগুলোর কার্যক্রম ও বিনিয়োগ সম্প্রসারিত হলে বাংলাদেশ থেকে বৃহৎ বৈশ্বিক ব্র্যান্ডগুলোর জন্য রপ্তানির নতুন দ্বার উন্মোচিত হবে। একই সঙ্গে নতুন এই উৎপাদন কার্যক্রম স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দক্ষতা উন্নয়ন এবং টেকসই শিল্প বিকাশে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করবে।

উৎসব ও সিজন-কে ঘিরে নতুন কালেকশন

১৫ বছর পূর্তি উদযাপনের পাশাপাশি লোটো বাংলাদেশ গ্রাহকদের জন্য তুলে ধরছে সময়োপযোগী নতুন পণ্যসম্ভার। এর মধ্যে রয়েছে বিশেষ পূজা কালেকশন এবং আসন্ন উইন্টার কালেকশন।

নতুন কালেকশনগুলোতে ফুটওয়্যার, অ্যাপারেল ও লাইফস্টাইল পণ্যের বৈচিত্র্যময় সমাহার থাকছে, যেখানে সমসাময়িক ডিজাইন, আরাম ও ব্যবহারিক কার্যকারিতার সমন্বয় করা হয়েছে। উৎসব, দৈনন্দিন জীবন, ভ্রমণ কিংবা পরিবর্তিত আবহাওয়া—প্রতিটি প্রয়োজনের সঙ্গে মানানসই পণ্য গ্রাহকদের কাছে পৌঁছে দেওয়াই লোটোর সিজনাল কালেকশনগুলোর মূল উদ্দেশ্য।

শুধু ব্যবসা নয়, উদ্যোক্তা তৈরিতেও নতুন উদ্যোগ

লোটো বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত নতুন উদ্যোক্তা তৈরি ও স্থানীয় ব্যবসা বিকাশে সহায়তা করা।

এ লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠানটি চালু করতে যাচ্ছে একটি Entrepreneur Development Program বা উদ্যোক্তা উন্নয়ন কর্মসূচি। এই উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন থানার সম্ভাবনাময় তরুণ, উচ্চাকাঙ্ক্ষী ব্যবসায়ী এবং বিদ্যমান উদ্যোক্তাদের চিহ্নিত করে তাদের একটি টেকসই ও পেশাদার ব্যবসা গড়ে তুলতে সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। কর্মসূচির আওতায় নির্বাচিত উদ্যোক্তারা ব্যবসায়িক দিকনির্দেশনা, পরিচালনাগত জ্ঞান, লজিস্টিক সহায়তা এবং অংশীদার ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সম্ভাব্য আর্থিক সহায়তার সুযোগ পাবেন।

লোটো বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য হলো, একজন উদ্যোক্তাকে শুধু একটি দোকানের মালিক হিসেবে নয়, বরং একটি সুসংগঠিত ব্যবসায়িক নেটওয়ার্কের নেতৃত্ব দেওয়ার সক্ষমতাসম্পন্ন ব্যবসায়ী হিসেবে গড়ে তোলা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, সফল উদ্যোক্তারা আগামী ১০ বছরের মধ্যে পর্যায়ক্রমে ২০টি পর্যন্ত দোকানের নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার সক্ষমতা অর্জন করতে পারবেন।

এই কর্মসূচির মাধ্যমে দেশের প্রতিটি থানা থেকে এমন উদ্যমী তরুণদের আহ্বান জানানো হবে, যাদের রয়েছে বড় হওয়ার স্বপ্ন এবং আন্তর্জাতিক মানের উদ্যোক্তা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার আগ্রহ।

এ উদ্যোগের লক্ষ্য শুধু লোটোর খুচরা বিক্রয় নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ নয়; বরং স্থানীয় পর্যায়ে উদ্যোক্তা তৈরি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং দেশের সামগ্রিক আর্থসামাজিক উন্নয়নে কার্যকর অবদান রাখা।


আস্থার ১৫ বছর, সামনে আরও বড় স্বপ্ন

লোটো বাংলাদেশের জন্য ১৫ বছর পূর্তি কেবল একটি প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়িক সাফল্যের পরিসংখ্যান নয়। এই অর্জনের সঙ্গে জড়িয়ে আছে কোটি গ্রাহকের আস্থা, হাজারো কর্মীর শ্রম, ব্যবসায়িক অংশীদার, ফ্র্যাঞ্চাইজি উদ্যোক্তা এবং দীর্ঘ পথচলার অসংখ্য মানুষের অবদান।

প্রতিষ্ঠানটির লক্ষ্য আগামী দিনে পণ্য উদ্ভাবন, প্রযুক্তি, উৎপাদন, খুচরা বিক্রয়, গ্রাহকসেবা এবং উদ্যোক্তা উন্নয়নের মধ্যে একটি সমন্বিত ইকোসিস্টেম গড়ে তোলা—যেখানে প্রতিষ্ঠানের বিকাশের পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থান ও ব্যবসার সুযোগও সৃষ্টি হবে।

লোটো বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, “বাংলাদেশে ১৫ বছর পূর্ণ করা আমাদের জন্য অত্যন্ত গর্ব ও আনন্দের একটি মুহূর্ত। একজন গ্রাহক দিয়ে যে যাত্রার শুরু, আজ তা ২৪৭টি আউটলেটের মাধ্যমে এক কোটিরও বেশি সন্তুষ্ট গ্রাহকের কাছে পৌঁছেছে। এই দীর্ঘ পথচলার মূল শক্তি ছিল আমাদের গ্রাহকদের আস্থা ও বিশ্বাস।

আমাদের আগামী দিনের লক্ষ্য শুধু উদ্ভাবনী ও প্রযুক্তিনির্ভর পণ্য তৈরি কিংবা আউটলেটের সংখ্যা বৃদ্ধি করা নয়; বরং আমরা দেশের স্থানীয় উদ্যোক্তাদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিতে চাই। আমরা চাই আমাদের অর্জন এমন একদল দক্ষ ও আন্তর্জাতিক মানের উদ্যোক্তা তৈরিতে ভূমিকা রাখুক, যারা ভবিষ্যতে বাংলাদেশের নিজস্ব ব্র্যান্ডকেও বিশ্বদরবারে প্রতিষ্ঠিত করতে পারবেন।

বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শক্তিগুলোর একটি হলো আমাদের বিপুলসংখ্যক পরিশ্রমী ও সংগ্রামী তরুণ জনগোষ্ঠী। প্রতিকূলতার মধ্যেও তারা এগিয়ে যাওয়ার শক্তি অর্জন করেছে। তাদের প্রয়োজন সঠিক দিকনির্দেশনা, জ্ঞান ও সুযোগ। আমরা বিশ্বাস করি, যথাযথ সহায়তা পেলে এই তরুণরাই অসাধারণ সাফল্য সৃষ্টি করতে পারে, নতুন কর্মসংস্থান তৈরি করতে পারে এবং দেশের অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করতে পারে।”

আগামী দিনে লোটো বাংলাদেশ তার রিটেইল নেটওয়ার্ক আরও সম্প্রসারণ, নতুন প্রযুক্তিনির্ভর পণ্য ও কালেকশন বাজারে আনা, গ্রাহক-অভিজ্ঞতা উন্নত করা এবং নতুন ব্যবসায়িক অংশীদারত্ব গড়ে তোলার মাধ্যমে দেশের স্পোর্টস ও লাইফস্টাইল খাতের বিকাশে ভূমিকা অব্যাহত রাখতে চায়।

১৫ বছরের লোটো বাংলাদেশ—এ এক নিরন্তর যাত্রা কর্মদক্ষতা, উদ্ভাবন, আস্থা ও সম্মিলিত অগ্রযাত্রার।

১৫ বছরের অর্জনকে পাথেয় করে এবার সামনে আরও বড় স্বপ্ন, আরও বিস্তৃত সম্ভাবনা—এবং নতুন অধ্যায়ের পথে লোটো বাংলাদেশ।

  বিষয়:   লোটো  গাজীপুর  কারখানা 


নগর-মহানগর- এর আরোও খরব 
সম্পাদক ও প্রকাশক : শফিক রেহমান
অফিস:
যায়যায়দিন মিডিয়াপ্লেক্স
৪৪৬ ই+এফ+জি তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল, ঢাকা ১২০৮
ইমেইল : [email protected]
বিভাগীয় ফোন:
অনলাইন নিউজ- ০১৩৩৫১০৭৭০১, ০১৫৭২১৭৩৭৭৭
বিজ্ঞাপন বিভাগ- ০১৯১২২৯২৩১৩, ০১৭১১১৭৫৩৩১
সার্কুলেশন বিভাগ- ০১৭১২৩৮০৩২৫, ০১৮৩৪৮০০৮৭৭
© ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত