অজ্ঞাতনামা এক নারী ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতাল থেকে দুই দিন বয়সী এক নবজাতক চুরির ঘটনা ঘটেছে। গত বৃহস্পতিবার বিকেল তিনটার দিকে হাসপাতালের গাইনী ওয়ার্ড থেকে এক মহিলা নবজাতককে চুরি করে নিয়ে গেছে।
এ ঘটনায় শহরজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। চুরি হওয়া শিশু জেলার বিজয়নগর উপজেলার উপজেলার বুধন্তি ইউনিয়নের সাতবর্গ গ্রামের রাজমিস্ত্রী শামিম মিয়া ও মরিয়ম বেগম দম্পতির প্রথম সন্তান।
শিশুর পরিবার জানায়, গত সোমবার প্রসব ব্যাথা নিয়ে মরিয়ম বেগম ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের গাইনি বিভাগে ভর্তি হন। পরদিন মঙ্গলবার দুপুরে তিনি একটি পুত্র সন্তান জন্ম দেন।
বৃহস্পতিবার দুপুরে অজ্ঞাতনামা এক নারী অন্য এক রোগীর স্বজন পরিচয়ে মরিয়ম ও তার মায়ের সাথে সম্পর্ক তৈরী করে। এর কিছুক্ষন পর নবজাতক শিশুটির মায়ের ব্যাথা অনুভব হলে ওই নারী সহযোগীতার কথা বলে শিশুটিকে কোলে নেয়। পরে ওই নারী শিশুটিকে নিয়ে ওই কক্ষের গেইটের কাছে যায়। এ সময় মরিয়ম ওই নারীকে রুমের ভেতর আসতে বলে, কিন্তু মুহুর্তের মধ্যে ওই প্রতারক নারী সেখান থেকে পালিয়ে যায়।
ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার লোকজন হাসপাতালে এসে তদন্ত কাজ শুরু করে। পরে সিসিটিভি ফুটেজে দেখো যায় ওই নারী শিশুটিকে নিয়ে হাসপাতাল থেকে পালিয়ে গেছে।
নবজাতক শিশুটির নানী মমতাজ বেগম জানান, দুপুরে ওই অজ্ঞাত নারী এসে অন্য এক রোগীর স্বজন পরিচয় দিয়ে তাদের সাথে প্রথমে কর্তাবার্তা বলেন। পরে তাদের সাথে সখ্যতা গড়ে তুলেন। এক পর্যায়ে মরিয়মের পেট ব্যাথা শুরু হলে ওই মহিলা শিশুটিকে কোলে নিয়ে রাখে। একপর্যায়ে মধ্যে সেখান থেকে শিশুটি নিয়ে চলে যায়।
শিশুটির মা মরিয়ম বেগম বলেন, বিয়ের তিন বছর পর আমার প্রথম পুত্র সন্তান হয়েছে। ওই নারী প্রতারণা করে আমার শিশুটি চুরি করে নিয়ে গেছে। আল্লাহ্ জানে আমার শিশুটি কেমন আছে। আমি আমার বুকের ধনকে ফেরত চাই। সরকার ও পুলিশ যেন দ্রæত উদ্ধার করে আমার সন্তানকে ফিরিয়ে দেয়। এবং ওই নারীকে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হোক।
শিশুটির বাবা শামীম মিয়া বলেন, আমি আমার সন্তানকে ফেরত চাই। সরকারি হাসপাতাল থেকে এভাবে শিশু চুরি হয়ে যাবে এটা কি করে হয়। এখানে নিরাপত্তা কোথায়। এই ঘটনায় অন্যান্য রোগীদের মাঝেও নিরাপত্তাহীনতা কাজ করছে। হাসপাতালের সিসিটিভি ক্যামেরাগুলোও ভালো নয়। পুলিশ প্রশাসনের কাছে আমার সন্তানকে দ্রæত খুঁজে বের করে দেয়ার জন্য দাবি জানাই।
এ ব্যাপারে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক (আরএমও) শাহীনুর আলম বলেন, পুলিশসহ আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা হাসপাতালের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করছে।
এ ব্যাপারে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক রতন কুমার ঢালী বলেন, হাসপাতালে সব সময় রোগীদের স্বজনদের অতিরিক্ত ভীড় ও চাপ থাকে। শিশু চুরির খবর আমরা পেয়েছি। পরিবারের লোকজনদের অসচেতনতায় এই ঘটনাটি ঘটেছে। হাসপাতালের নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য সার্বক্ষণিক আনসার নিয়োজিত থাকলে সুবিধা হয়। সিসিটিভি গুলো দুর্বল হয়ে পড়েছে । সেগুলো পরিবর্তন করে নতুন সিসিটিভির জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন দেয়া আছে।
এ ব্যাপারে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খাইরুল আলম জানান, ঘটনার খবর পেয়ে ভিকটিমের পরিবার ও আশপাশের লোকজনদের সাথে কথা বলেছি। হাসপাতালের সিসিটিভির ফুটজ সংগ্রহ করে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। ওই নারীকে সনাক্তসহ শিশুটি উদ্ধারে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে।