ছবি-যাযাদি প্রতিষ্ঠার ১৭ বছর পেরিয়ে গেলেও কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন হয়নি বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের। পর্যাপ্ত বই, আসন, গবেষণা উপকরণ ও আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর সেবার ঘাটতিতে গ্রন্থাগারটির কার্যক্রম নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে পেশাদার গ্রন্থাগারিকের পরিবর্তে বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকদের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়টি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
২০০৮ সালে প্রতিষ্ঠিত বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের কার্যক্রমও প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই শুরু হয়। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে ২২টি বিভাগ চালু থাকলেও শিক্ষার্থীদের একাডেমিক ও গবেষণার চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে গ্রন্থাগারের বই ও অন্যান্য সংগ্রহ বাড়েনি বলে অভিযোগ রয়েছে।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, একাডেমিক বইয়ের পাশাপাশি সহশিক্ষামূলক বইয়ের সংগ্রহও প্রয়োজনের তুলনায় কম। পড়াশোনার জন্য পর্যাপ্ত কক্ষ ও আসন নেই। গবেষণার প্রয়োজনীয় বই, জার্নাল ও অন্যান্য উপকরণেরও সংকট রয়েছে। পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর গ্রন্থাগার সেবার পর্যাপ্ত ব্যবহার না থাকায় শিক্ষার্থীরা কাঙ্ক্ষিত সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর বিভিন্ন সময়ে কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের গ্রন্থাগারিক হিসেবে অর্থনীতি, ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ, গণিত, পদার্থবিজ্ঞান ও ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের শিক্ষকদের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ফলে তাদের নিজ নিজ একাডেমিক দায়িত্বের পাশাপাশি গ্রন্থাগারের প্রশাসনিক ও ব্যবস্থাপনার দায়িত্বও পালন করতে হয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, একজন শিক্ষককে অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে গ্রন্থাগারের দায়িত্ব দেওয়ার ফলে গ্রন্থাগারের উন্নয়ন, সেবা সম্প্রসারণ ও নিয়মিত ব্যবস্থাপনায় কাঙ্ক্ষিত মনোযোগ দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।
গ্রন্থাগারে কর্মরত কয়েকজনের অভিযোগ, অন্য বিভাগের শিক্ষকদের গ্রন্থাগারিকের দায়িত্ব দেওয়ায় দাপ্তরিক কার্যক্রমেও নানা জটিলতা তৈরি হয়। বিভিন্ন ফাইল ও নথিতে স্বাক্ষরের জন্য সেগুলো গ্রন্থাগার থেকে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের বিভাগ বা একাডেমিক ভবনে নিয়ে যেতে হয়। এতে গুরুত্বপূর্ণ নথি সংরক্ষণ ও দাপ্তরিক কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে প্রায় দুই বছরের জন্য ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. মনিরুজ্জামানকে কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের গ্রন্থাগারিকের দায়িত্ব দেওয়া হয়। গত ১৮ সেপ্টেম্বর তার দুই বছরের দায়িত্বের মেয়াদ শেষ হলেও তাকে একই দায়িত্বে বহাল রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে।
সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালন করলেও এ সময়ে গ্রন্থাগারের সেবার মান, অবকাঠামো কিংবা আধুনিকায়নে দৃশ্যমান পরিবর্তন আসেনি। তবে এ বিষয়ে অধ্যাপক ড. মো. মনিরুজ্জামানকে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেননি। তাকে হোয়াটসঅ্যাপে মেসেজ করলে তিনি সাক্ষাতে কথা বলবেন বলে জানান।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মকর্তাদের কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছেন, গ্রন্থাগারে পেশাদার জনবল থাকা সত্ত্বেও কেন একজন শিক্ষককে বারবার গ্রন্থাগারিকের দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে। তাদের মতে, গ্রন্থাগার ও তথ্যবিজ্ঞান বিষয়ে পেশাগত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ব্যক্তিকে দায়িত্ব দিলে সেবার মান উন্নয়ন এবং আধুনিকায়নের কাজ আরও কার্যকরভাবে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব।
বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের শিক্ষার্থী আহমেদুল হক আলভী বলেন, একটি বিশ্ববিদ্যালয় তার কতটা উদ্দেশ্য পূরণ করতে পারবে, তা অনেকাংশেই নির্ভর করে বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরি কতটা সমৃদ্ধ তার ওপর।
অথচ বেরোবির লাইব্রেরির বেহাল দশার কথা নতুন করে কিছু বলার নেই। বেরোবি প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে অদ্যাবধি খুবই সামান্য ফ্যাসিলিটি নিয়ে লাইব্রেরির কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে। এখানে পর্যাপ্ত বই নেই, লাইব্রেরির আধুনিকায়ন নেই এবং পড়াশোনার পরিবেশও আহামরি ভালো নয়। এজন্য শিক্ষার্থীরা লাইব্রেরিমুখী হচ্ছে না।
আমরা প্রত্যাশা করি, লাইব্রেরিতে পর্যাপ্ত বই থাকবে, আইটি-বেজড ফ্যাসিলিটি থাকবে, যাতে শিক্ষার্থীরা বিশ্বের বড় বড় লাইব্রেরির রিসোর্সে অ্যাক্সেস পায় এবং পড়াশোনার পরিবেশ আরও উন্নত হয়।
এ বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) প্রফেসর ড. মো. ফেরদৌস রহমান বলেন, লাইব্রেরীকে আরো সমৃদ্ধ করার কাজ চলছে।