প্রকাশ: শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:১১ পিএম

ময়মনসিংহের ভালুকায় নিজের বাবার ধর্ষণের শিকার হয়ে এক কিশোরী গৃহকর্মী (১৩) অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার অভিযোগে আব্দুল মোতালেক (৩২) নামে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শনিবার (১০ অক্টোবর) আব্দুল মোতালেককে আদালতে পাঠানো হয়েছে। এর আগে শুক্রবার (৯ অক্টোবর) রাতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার আব্দুল মোতালেক ময়মনসিংহের তারাকান্দা উপজেলার কামারগাঁও গ্রামের লাল মিয়ার ছেলে। বর্তমানে ভালুকা উপজেলার কাঠালী এলাকায় ভাড়া বাসায় থেকে রাজমিস্ত্রীর কাজ করতেন।
জানা গেছে, ভুক্তভোগী কিশোরী ঢাকার কলাবাগান থানা এলাকায় একটি বাসায় গৃহকর্মীর কাজ করত। গত ২২ মে কয়েকদিনের ছুটিতে বাবা-মায়ের কাছে ভালুকা উপজেলার কাঠালী এলাকায় বেড়াতে যায় সে। পরে ২৫ জুন পুনরায় ঢাকা গিয়ে ওই বাসায় গৃহকর্মীর কাজে যোগ দেয়। সম্প্রতি মেয়েটির শারীরিক অবস্থার পরিবর্তন দেখে বাসার মালিকের সন্দেহ হলে জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে কিশোরী জানায়, কাঠালী বেড়াতে যাওয়ার পর তার বাবা আব্দুল মোতালেক তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন। বিষয়টি জানার পর বাসার মালিক কৌশলে মেয়েটির মা-বাবাকে ডেকে নেন এবং কলাবাগান থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন। পরবর্তীতে কিশোরীর মা ও বাসার মালিকের জেরার মুখে অভিযুক্ত বাবা প্রাথমিকভাবে নিজের মেয়ের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কের কথা স্বীকার করেন। পরে তাকে কলাবাগান থানা থেকে ভালুকা মডেল থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন এবং নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী শিশুর মা।
ভুক্তভোগী শিশুর মা বলেন, 'গত ২২ মে আমার স্বামী আব্দুল মোতালেক নিজে গিয়ে মেয়েকে ঢাকা থেকে বেড়ানোর কথা বলে নিয়ে আসে। এক মাস রাখার পর ২৫ জুন তাকে আবারও কাজের জায়গায় রেখে আসে। আমি জীবিকার তাগিদে চাকরির সুবাদে দিনের একটা বড় সময় বাইরে থাকতাম। এই সুযোগে ভাড়াবাড়িতে খালি বাসায় মেয়েকে একা পেয়ে তাকে একাধিকবার ধর্ষণ করেন। বর্তমানে মেয়ে অন্তঃসত্ত্বা হয়েছে পড়েছে।'এ ঘটনায় তিনি তার স্বামীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী জানান।
ভালুকা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম বলেন, আব্দুল মোতালেককে আমাদের হেফাজতে হস্তান্তর করার পরে ভুক্তভোগীর মায়ের করা ধর্ষণ মামলায় আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে এবং ভুক্তভোগী কিশোরীর ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।