জিআই নিবন্ধনই শেষ নয় পণ্যকে ব্যবসা সফল করতে হবে 

যাযাদি ডেস্ক

বিজনেস

শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুন নাসের খান বলেছেন, ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্যের নিবন্ধনই চূড়ান্ত সাফল্য নয়; বরং নিবন্ধনের পর পণ্যের বাণিজ্যিকীকরণ,

2026-10-16T00:00:00+06:00
2026-10-15T21:21:11+06:00
শনিবার ● ১৭ অক্টোবর ২০২৬
১ কার্তিক ১৪৩৩
শিরোনাম:
বিজনেস
জিআই নিবন্ধনই শেষ নয় পণ্যকে ব্যবসা সফল করতে হবে 
যাযাদি ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:০০ এএম  আপডেট: ১৫.১০.২০২৬ ৯:২১ পিএম (প্রিন্ট সংস্করণ)

শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুন নাসের খান বলেছেন, ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্যের নিবন্ধনই চূড়ান্ত সাফল্য নয়; বরং নিবন্ধনের পর পণ্যের বাণিজ্যিকীকরণ, গুণগত মান নিশ্চিতকরণ এবং আন্তর্জাতিক বাজার সম্প্রসারণের মাধ্যমে প্রকৃত উৎপাদকদের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতে হবে। দেশের ঐতিহ্যবাহী পণ্যগুলো সুরক্ষা, প্রচার ও বাণিজ্যিকীকরণের মাধ্যমে ভবিষ্যতের গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক সম্পদে পরিণত করতে হবে।

বৃহস্পতিবার শিল্প মন্ত্রণালয়ের সভা কক্ষে ‘ভৌগোলিক নিদের্শক (জিআই) পণ্যের বাণিজ্যিকীকরণ : সম্ভাবনা, চ্যালেঞ্জ ও করণীয় নির্ধারণ’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

শিল্প সচিব বলেন, ঐতিহ্য থাকা আর সেই ঐতিহ্যের আইনগত ও অর্থনৈতিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা এক বিষয় নয়। আমাদের ঐতিহ্য শুধু সংরক্ষণ করলেই হবে না, এটিকে জনগণের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির শক্তিতে পরিণত করতে হবে।

তিনি বলেন, জামদানি, নকশিকাথা, ফজলি আমসহ বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী পণ্যের সঙ্গে দেশের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও মানুষের জীবন-জীবিকা নিবিড়ভাবে জড়িত। এসব পণ্যের আইনগত সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বিলম্ব হলে আন্তর্জাতিক বাজারে নিজস্ব স্বতন্ত্র পরিচয় প্রতিষ্ঠা জটিল হয়ে পড়তে পারে। তাই যথাযথ নথিভুক্তকরণ, জিআই নিবন্ধন, গুণগত মান নিশ্চিতকরণ ও ব্র্যান্ডিংয়ের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।

আব্দুন নাসের খান বলেন, জিআই নিবন্ধনই গন্তব্য নয়, এটি কেবল যাত্রার শুরু। নিবন্ধনের প্রকৃত সাফল্য তখনই আসবে, যখন উৎপাদক ন্যায্যমূল্য পাবেন, বাজার সম্প্রসারিত হবে এবং নকল পণ্যের কারণে ঐতিহ্যবাহী পণ্যের সুনাম ক্ষতিগ্রস্ত হবে না।

তিনি আরো বলেন, জিআই পণ্যের বাণিজ্যিকীকরণের জন্য উৎপাদন, মান নিয়ন্ত্রণ, প্যাকেজিং, ব্র্যান্ডিং, পণ্যের উৎস শনাক্তকরণ, বিপণন ও রফতানি সম্প্রসারণের সমন্বয়ে কার্যকর মূল্যশৃঙ্খল গড়ে তুলতে হবে। একই সঙ্গে পণ্যের স্বকীয়তা, ঐতিহ্য ও ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য অক্ষুণ্ন রেখে বাজার সম্প্রসারণ করতে হবে, যেন বাণিজ্যিক সুফল প্রকৃত উৎপাদক, কারুশিল্পী ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর কাছে পৌছায়।

সেমিনার থেকে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ ফলাফল প্রত্যাশা করে শিল্প সচিব বলেন, প্রথমত, যেসব ঐতিহ্যবাহী পণ্যের জিআই সুরক্ষা নিশ্চিত করা জরুরি, সেগুলো চিহ্নিত করতে হবে। দ্বিতীয়ত, এরই মধ্যে নিবন্ধিত পণ্যগুলোর বাণিজ্যিকীকরণে অগ্রাধিকার নির্ধারণ করতে হবে। তৃতীয়ত, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর দায়িত্ব নির্ধারণের পাশাপাশি সুনির্দিষ্ট সময়সীমাসহ বাস্তবসম্মত কর্ম পরিকল্পনা প্রণয়ন করতে হবে।

তিনি বলেন, আমরা চাই, ‘জিআই বাংলাদেশ’ শুধু একটি ভৌগোলিক পরিচয় নয়; বরং এটি যেন স্বকীয়তা, গুণগত মান ও আস্থার প্রতীকে পরিণত হয়।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ সুপৃম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার সারাওয়াত সিরাজ শুল্কা। এ ছাড়া অন্যদের মধ্যে পেটেন্ট, শিল্প নকসাও ট্রেডমাকর্সের মহাপরিচালক জাহাঙ্গীর হোসেন, মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব নুরুজ্জামান, টাঙ্গাইল শাড়ি কুটিরের স্বত্বাধিকারী মনিরা ইমদাদ, সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ব্যারিস্টার ইমাম হোসেন সিডনী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের প্রভাষক আব্দুর রাজ্জাক মজুমদার, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বক্তব্য রাখেন। 
বিজনেস- এর আরোও খরব 
সম্পাদক ও প্রকাশক : শফিক রেহমান
অফিস:
যায়যায়দিন মিডিয়াপ্লেক্স
৪৪৬ ই+এফ+জি তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল, ঢাকা ১২০৮
ইমেইল : [email protected]
বিভাগীয় ফোন:
অনলাইন নিউজ- ০১৩৩৫১০৭৭০১, ০১৫৭২১৭৩৭৭৭
বিজ্ঞাপন বিভাগ- ০১৯১২২৯২৩১৩, ০১৭১১১৭৫৩৩১
সার্কুলেশন বিভাগ- ০১৭১২৩৮০৩২৫, ০১৮৩৪৮০০৮৭৭
© ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত