প্রকাশ: রোববার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:০০ এএম আপডেট: ১৭.১০.২০২৬ ৯:২০ পিএম (প্রিন্ট সংস্করণ)
বগুড়ার বিভিন্ন সরকারি খাদ্য গুদামে সিসি ক্যামেরা নষ্ট -যাযাদি ইমরান হোসাইন লিখন, বগুড়া
সরকারি খাদ্যগুদামে কোটি কোটি টাকার খাদ্য শস্যের মজুত, অথচ সেই খাদ্য শস্যের নিরাপত্তায় বসানো নজরদারির চোখই অচল। বগুড়ার ২৪টি সরকারি খাদ্য গুদামের মধ্যে ২৩টিতেই সিসি ক্যামেরা কার্যত নিষ্ক্রিয়। আর এই নজরদারিহীনতার সুযোগে খাদ্য শস্যের মজুত ও সরবরাহে অনিয়মের পথ তৈরি হচ্ছে কি না, তা নিয়ে উঠছে গুরুতর প্রশ্ন। অভিযোগ রয়েছে, ক্যামেরার চোখ বন্ধ থাকায় নষ্ট-পচা চাল সংরক্ষণ কিংবা নিয়মবহির্ভূতভাবে ধান-চাল ওঠানামার মতো অনিয়ম হচ্ছে দেদারছে। ২০২২-২৩ অর্থবছরে সরকারি অর্থে স্থাপন করা ক্যামেরাগুলো দীর্ঘদিন অচল থাকলেও সচল করার কার্যকর উদ্যোগ নেয়া হয়নি। অভিযোগ উঠেছে, চরম অবহেলা এবং নিজেদের অনিয়মকে নিয়মে পরিনত করতেই এই ক্যামেরাগুলো এক ধরনের ইচ্ছা করেই নষ্ট করা হয়েছে।
জেলা খাদ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বগুড়ার সরকারি খাদ্য গুদামগুলোতে মোট ২৫০টি সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছিল। এর মধ্যে শুধু সান্তাহার খাদ্যগুদামের ১২টির সবগুলো, বেতগাড়ীতে সাতটি, কাহালুতে তিনটি এবং সোনাতলার হরিখালী খাদ্যগুদামে একটি ক্যামেরা সচল থাকলেও বাকি ক্যামেরাগুলো সবই অচল।
সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে গুদামে ধান-চাল প্রবেশ, মজুত এবং সরবরাহের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করার কথা। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে ক্যামেরা অচল থাকায় এসব কার্যক্রমের দৃশ্যমান নজরদারি ব্যাহত হচ্ছে। এতে খাদ্যশস্যের মজুত ও পরিবহনে কোনো অনিয়ম হচ্ছে কি না, তা যাচাইয়ের ক্ষেত্রে নজরদারি ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
এ বিষয়ে বগুড়া জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কাজী সাইফুদ্দিন জানান, ক্যামেরাগুলো সচল করার বিষয়ে বারবার ঊর্ধ্বতন বরাবর রিমাইন্ডার দেয়া হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর সমাধান পাওয়া যায়নি।