প্রকাশ: শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:০৮ পিএম
ছবি-যাযাদি রাজশাহীর বাঘা উপজেলার কিশোরপুর গ্রামে পরকীয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে এক ব্যক্তির বাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে।
জানা গেছে, পাশাপাশি বাড়ি হাফিজ ও রিকসোনার। রিকসোনার স্বামী কালু মাতব্বর ও বড় ছেলে উসমান মালয়েশিয়া প্রবাসী। বাড়িতে ছেলে আবু বক্করকে নিয়ে থাকেন তিনি। অন্যদিকে বাবা-মা ও স্ত্রী সন্তান সঙ্গে নিয়ে থাকেন পাশের বাড়ির হাফিজ। তারা এক যুগেরও বেশি সময় আগে উপজেলার আতার পাড়া চর অঞ্চলে বসবাস করতেন। পরে ব্ঘা উপজেলার পাকুড়িয়া ইউনিয়নের কিশোরপুর শেখপাড়া বসতি স্থাপন করে বসবাস করছেন। রিকসোনা সম্পর্কে হাফিজের ফুফু বলে জানা গেছে।
স্থানীয়দের দাবি, পাশাপাশি বাড়ির সুবাদে দীর্ঘদিন ধরে গোপনে অনৈতিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন হাফিজ ও রিকসোনা।ঘটনার দিন শুক্রবার রাতে রিকসোনার ছেলে আবু বক্করের অনুপস্থিতির সুযোগে তার বাড়িতে যান হাফিজ। রাত ১১টার দিকে মা রিকসোনার সঙ্গে হাফিজের অনৈতিক কর্মকা- নজরে আসে ছেলে আবু বক্করের। এ সময় তিনি হাফিজুলের উপর হামলা ও মারধর করেন । এতে গুরুত্বর আহত হোন হাফিজ। তবে দাবী করা হয়েছে জানালা ভেঙ্গে পালিয়ে যাওয়ার সময় আহত হয় হাফিজ। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে গ্রামে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়দের একটি অংশের দাবি, হাফিজুর রহমান হাফিজ রাজশাহী কলেজ শাখার ইসলামী ছাত্র শিবিরের দায়িত্বশীল পদে ছিলেন বলে জানা গেছে।
পাকুড়িয়া ইউনিয়নের জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারী নবিউল ইসলাম নবী জানান, সে রাজশাহী জেলায় ছাত্র শিবিরের রাজনীতির সাথে জড়িত থাকলেও বাঘা উপজেলায় শিবির কিংবা জামায়াতের রাজনীতির সাথে জড়িত নয়। তিনি জানান অভিযুক্ত হাফিজ রাজশাহী ইবনে সিনা হাসপাতালে চাকরী করতেন বলে শুনেছি। গুরুত্বর আহতের পর তাকে রাজশাহী ইবনে সিনা হাসপাতাল থেকে তাকে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়। হাতের রগ কেটে যাওয়ায় অবস্থা গুরুত্বর বলে জানা গেছে। সেখানে চিকিৎসকের পর্যবেক্ষণে রয়েছেন। তবে তাদের মধ্যে সম্পর্ক ছিল বলে শুনেছি।
এদিকে ঘটনার জের ধরে পরদিন শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টার দিকে আবু বক্করসহ বিক্ষুব্ধ জনতা হাফিজের বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। পরে স্থানীয় লোকজন আগুন নিভিয়ে ফেলে। আগুনে ঘরের ভেতরে থাকা আসবাবপত্র পুড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
শনিবার বিকালে সরেজমিনে হাফিজ ও রিকসোনার বাড়িতে গিয়ে কাউকে পাওয়া যায়নি। রিকসোনার বাড়ি ছিল তালাবদ্ধ। তবে হাফিজের বাড়ির দুই কক্ষে আগুনের ধোঁয়া দেখতে পাওয়া যায়। পরবর্তীতে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
স্থানীয় সজল, আরিফসহ অনেকেই জানান, অনৈতিক কর্মকা- দেখে ফেলে ধারালো হাঁসুয়া দিয়ে হাফিজকে কুপিয়ে জখম করে আবু বক্কর। আবার কেউ বলছেন, পালিয়ে যাওয়ার সময় আহত হয়েছে হাফিজ। ঘটনা নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও উত্তেজনা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।
বাঘা থানার ওসি সেরাজুল হক জানান, পরবর্তীতে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান ওসি।