প্রকাশ: রোববার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:০০ এএম আপডেট: ১১.১০.২০২৬ ৪:৩৬ পিএম (প্রিন্ট সংস্করণ)
পালং খিয়াং ঝর্ণাপাহাড়ের বুক চিরে নেমে আসা স্বচ্ছ পানির জলধারা, চারপাশে ঘন সবুজ বন, খাড়া পাহাড় আর বিশাল পাথরের সারি। কোথাও ঝিরির কলতান, কোথাও পাহাড়ের নিস্তব্ধতা। দুর্গম পাহাড়ি পথ পেরিয়ে প্রকৃতির এমন অপরূপ রূপের দেখা মেলে বান্দরবানের আলীকদম উপজেলার পালং খিয়াং ঝর্ণায়। পর্যটকদের কাছে তুলনামূলক কম পরিচিত এই ঝর্ণা যেন পাহাড়ের গভীরে লুকিয়ে থাকা এক প্রাকৃতিক বিস্ময়। তবে এর সৌন্দর্য উপভোগ করতে হলে শুধু প্রকৃতিপ্রেমী হলেই চলবে না; প্রয়োজন শারীরিক সক্ষমতা, পর্যাপ্ত প্রস্তুতি ও দুর্গম পাহাড়ি পথে চলার মানসিকতা।
বান্দরবানের আলীকদম উপজেলার পূর্বাঞ্চলে চিম্বুক রেঞ্জের কির্সতং পাহাড়ের কাছাকাছি পালং খিয়াং ঝর্ণার অবস্থান। প্রচলিত পর্যটন কেন্দ্রের মতো এখানে সহজে পৌছানোর সুযোগ নেই। পাহাড়ি ট্রেইল, খাড়া ঢাল ও বড় বড় পাথর পেরিয়ে যেতে হয় ঝরনাটির কাছে। তিন থেকে চারটি ধাপে নেমে আসা ঝরনাটির প্রতিটি স্তরেই রয়েছে আলাদা সৌন্দর্য। পাহাড়ের গায়ে আছড়ে পড়া পানির শব্দ আর চারপাশের সবুজ প্রকৃতি মিলে তৈরি করেছে ভিন্ন এক আবহ।
পালং খিয়াং ঝরনায় যাওয়ার অন্যতম পথ হলো তৈনখাল হয়ে নদীপথে দুছরী বাজার। ঢাকা থেকে পালং খিয়াং ঝরনায় যেতে প্রথমে বান্দরবানের আলীকদম উপজেলায় পৌছাতে হবে। আলীকদম পৌছে বাস টার্মিনাল এলাকা থেকে স্থানীয় গাইডের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে। এরপর টমটম অথবা স্থানীয়ভাবে প্রচলিত চাদের গাড়িতে করে আমতলী ঘাটঘর এলাকায় যেতে হয়। সেখান থেকে দুছরী বাজার হয়ে ট্রেকিং করে হাজিরাম পাড়ার দিকে এগোতে হয়। হাজিরাম পাড়া থেকে রংরাং ও কির্সতং পাহাড় অভিযান শেষে খেমচং পাড়া হয়ে পালং খিয়াং ঝরনার পথে যাওয়া যায়।
প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও দুর্গম পাহাড়ি পরিবেশের কারণে পালং খিয়াং ঝরনা ভবিষ্যতে এডভেঞ্চারপ্রেমী পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয় গন্তব্য হয়ে উঠতে পারে। কির্সতং ও রংরাং পাহাড় অভিযানের সঙ্গে ঝরনাটি যুক্ত হলে একই ভ্রমণে পাহাড়ের চূড়া, পাথুরে ট্রেইল ও জলধারার সৌন্দর্য উপভোগের সুযোগ তৈরি হয়।