শিশুশ্রমে শিশুদের হার বেড়েছে, গৃহকর্ম থেকে মুক্ত করে বিদ্যালয়ে পাঠানোর আহ্বান

যাযাদি রিপোর্ট

সারাদেশ

১৪ বছরের কম বয়সী শিশুদের গৃহকর্মসহ সব ধরনের শিশুশ্রম থেকে মুক্ত করে শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন শ্রমিক সংগঠন,

2026-10-12T19:52:50+06:00
2026-10-12T19:52:50+06:00
সোমবার ● ১২ অক্টোবর ২০২৬
২৭ আশ্বিন ১৪৩৩
শিরোনাম:
সারাদেশ
শিশুশ্রমে শিশুদের হার বেড়েছে, গৃহকর্ম থেকে মুক্ত করে বিদ্যালয়ে পাঠানোর আহ্বান
যাযাদি রিপোর্ট
প্রকাশ: সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৫২ পিএম  
ছবি: যাযাদি
১৪ বছরের কম বয়সী শিশুদের গৃহকর্মসহ সব ধরনের শিশুশ্রম থেকে মুক্ত করে শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন শ্রমিক সংগঠন, উন্নয়ন সংস্থা ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা। একই সঙ্গে সব শিশুর জন্য ১৪ বছর বয়স পর্যন্ত অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক শিক্ষা নিশ্চিত করতে সরকারের প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

শিশু অধিকার দিবস ও বিশ্ব শিশু সপ্তাহ ২০২৬ উপলক্ষে বাংলাদেশ লেবার ফাউন্ডেশন (বিএলএফ) এবং শাপলা নীড় আয়োজিত মানববন্ধন ও র‍্যালি-পরবর্তী সমাবেশে বক্তারা এসব কথা বলেন। গতকাল শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

কর্মসূচিতে সরকারের প্রতিনিধি, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের প্রতিনিধি, শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ), ইন্ডাস্ট্রিঅল বাংলাদেশ কাউন্সিল (আইবিসি), জাতীয় ও খাতভিত্তিক শ্রমিক সংগঠন, মালিক সংগঠন, আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও), উন্নয়ন সহযোগী, সুশীল সমাজ ও গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, শিশুদের অধিকার, সুরক্ষা ও সুস্থ বিকাশ নিশ্চিত করতে পরিবার, সমাজ, সরকার এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। শিশুশ্রম বন্ধের পাশাপাশি শিশুদের শিক্ষার সুযোগ বাড়ানো, ঝুকিপূর্ণ পরিস্থিতি থেকে সুরক্ষা দেওয়া এবং নিরাপদ শৈশব নিশ্চিত করা জরুরি।

বাংলাদেশ মাল্টিপল ইন্ডিকেটর ক্লাস্টার সার্ভে ২০২৫-এর প্রাথমিক ফলাফল তুলে ধরে বক্তারা জানান, দেশে পাচ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিশুদের ৯ দশমিক দুই শতাংশ শিশুশ্রমে নিয়োজিত। ২০১৯ সালে এ হার ছিল ছ দশমিক আট শতাংশ। অর্থাৎ, এ সময়ে শিশুশ্রমে নিয়োজিত শিশুদের হার বেড়েছে। একই জরিপের প্রাথমিক ফলাফল অনুযায়ী, সাত থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশুদের মধ্যে মাত্র ৫০ দশমিক দুই শতাংশ মৌলিক পড়ার দক্ষতা এবং ৩৯ দশমিক দুই শতাংশ মৌলিক গণনাদক্ষতা অর্জন করেছে।

বক্তারা বলেন, এসব তথ্য শিশুশ্রম ও শোষণ থেকে শিশুদের সুরক্ষা, শিক্ষা, বিকাশ এবং নিরাপদ শৈশব নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ তুলে ধরে। জাতিসংঘ শিশু অধিকার সনদ অনুযায়ী শিশুদের সব অধিকার নিশ্চিত করতে আরও কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন। শিশুদের অধিকার, সুরক্ষা ও বিকাশ সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে বাংলাদেশে প্রতি বছর অক্টোবর মাসের প্রথম সোমবার শিশু অধিকার দিবস পালন করা হয়। এ উপলক্ষে শিশু অধিকারবিষয়ক সপ্তাহও আয়োজন করা হয়।

মানববন্ধনে আইএলওর ন্যাশনাল প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর সৈয়দা মনিরা সুলতানা বলেন, “সকল শিশুর জন্য ১৪ বছর বয়স পর্যন্ত অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক শিক্ষা নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি। একই সঙ্গে, যেসব পরিবারে ১৪ বছরের কম বয়সী শিশু গৃহকর্মে নিয়োজিত রয়েছে, তাদের শিশুশ্রম থেকে মুক্ত করে শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করতে সকলের এগিয়ে আসা প্রয়োজন। আমরা প্রত্যেকে যদি অন্তত একজন শিশুকে শিশুশ্রম থেকে মুক্ত করতে উদ্যোগী হই, তাহলে সম্মিলিত প্রচেষ্টায় অসংখ্য শিশুকে শিশুশ্রম থেকে মুক্ত করা সম্ভব হবে।

কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের প্রতিনিধি ডা. বিশ্বজিৎ রায় বলেন, শিশুশ্রমে নিয়োজিত শিশুদের পুনর্বাসনে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছে। পাশাপাশি, ২০২৬ থেকে ২০৩০ মেয়াদের পাচ বছরব্যাপী জাতীয় কর্মপরিকল্পনা (এনপিএ) প্রণয়ন করা হচ্ছে। এ কর্মপরিকল্পনা যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে ২০৩০ সালের মধ্যে শিশুশ্রমে নিয়োজিত ও ঝুকিতে থাকা শিশুদের পুনর্বাসন এবং সুরক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। সব ধরনের শিশুশ্রম নিরসন ও শিশুদের সুন্দর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে তিনি সরকারের পাশাপাশি সব অংশীজনকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

শাপলা নীড়ের কান্ট্রি ডিরেক্টর ইউমি ইয়াগিশিতা মাসুদা বলেন, শিশুরাই আমাদের ভবিষ্যৎ, আমাদের স্বপ্ন এবং বাংলাদেশের অমূল্য সম্পদ। যেসব শিশু নানা সীমাবদ্ধতার কারণে নিজেদের সম্ভাবনা বিকাশের সুযোগ থেকে বঞ্চিত, তাদের পাশে দাড়াতে হবে এবং তাদের জন্য সুযোগ তৈরি করতে হবে। তবে শিশুদের অধিকার, নিরাপত্তা ও সুস্থ বিকাশ নিশ্চিত করা শুধু কোনো একটি প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব নয়; বরং শিশুদের জন্য একটি সহায়ক পরিবেশ গড়ে তুলতে পরিবার, সমাজ ও সরকারকে সম্মিলিতভাবে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

জাতীয় শ্রমিক জোট বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক নইমুল আহসান জুয়েল বলেন, আইএলও কনভেনশন ১৩৮ অনুযায়ী বাংলাদেশে শিশুশ্রমে প্রবেশের ন্যূনতম বয়স ১৪ বছর কার্যকর করতে হবে। পাশাপাশি, শিশুদের পরিবারকে সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির আওতায় আনতে হবে। এসব কর্মসূচিতে এমন শর্ত রাখা প্রয়োজন, যাতে অভিভাবকেরা সন্তানদের নিয়মিত বিদ্যালয়ে পাঠান। একই সঙ্গে, ১৪ থেকে ১৮ বছর বয়সী কিশোর-কিশোরীদের জন্য কারিগরি ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণের সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে, যাতে তারা ভবিষ্যতে কর্মসংস্থানের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন করতে পারেন।

শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদের (স্কপ) যুগ্ম সমন্বয়ক নুরুল আমিন বলেন, শিশুশ্রম বন্ধে নিয়োগকর্তাদের আইনের আওতায় এনে আইনানুগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি, শিশুদের পরিবারের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং অভিভাবকদের ন্যূনতম মজুরি নিশ্চিত করা জরুরি। এতে পরিবারগুলোর আর্থিক সক্ষমতা বাড়বে এবং শিশুদের শ্রমে নিয়োজিত করার পরিবর্তে তাদের শিক্ষা ও ভবিষ্যৎ গঠনে গুরুত্ব দেওয়া সম্ভব হবে।

ইন্ডাস্ট্রিঅল বাংলাদেশ কাউন্সিলের (আইবিসি) নারী বিষয়ক সম্পাদক খাদিজা রহমান বলেন, শিশুশ্রম নিরসন এবং শিশুদের অধিকার ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে নারী-পুরুষের সমান অংশগ্রহণ জরুরি। এ লক্ষ্যে আইএলও কনভেনশন ১৩৮ ও ১৮২-এর কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে। দারিদ্র্য ও সামাজিক বৈষম্যের কারণে অনেক শিশু অল্প বয়সেই শ্রমে যুক্ত হতে বাধ্য হয়। এ পরিস্থিতির পরিবর্তনে শিশুদের পরিবারের আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নয়ন, অভিভাবকদের জন্য শোভন কর্মসংস্থান এবং মেয়েশিশুসহ সব শিশুর জন্য মানসম্মত শিক্ষা ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

সমাবেশের বক্তারা শিশুশ্রমমুক্ত বাংলাদেশ গঠন, শিশুদের শিক্ষার অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং তাদের নিরাপত্তা ও সুস্থ বিকাশ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে, শিশুশ্রম প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ ও শিশুদের অধিকার রক্ষায় বিদ্যমান উদ্যোগগুলো বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দেন তারা।
  বিষয়:   শিশুশ্রম  শিশু অধিকার  শিক্ষা 


সারাদেশ- এর আরোও খরব 
সম্পাদক ও প্রকাশক : শফিক রেহমান
অফিস:
যায়যায়দিন মিডিয়াপ্লেক্স
৪৪৬ ই+এফ+জি তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল, ঢাকা ১২০৮
ইমেইল : [email protected]
বিভাগীয় ফোন:
অনলাইন নিউজ- ০১৩৩৫১০৭৭০১, ০১৫৭২১৭৩৭৭৭
বিজ্ঞাপন বিভাগ- ০১৯১২২৯২৩১৩, ০১৭১১১৭৫৩৩১
সার্কুলেশন বিভাগ- ০১৭১২৩৮০৩২৫, ০১৮৩৪৮০০৮৭৭
© ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত