অ্যাডভান্স ডেভেলপার কোম্পানির স্বত্বাধিকারী মো. আব্দুল হান্নানরাজধানীর মিরপুর-২ এলাকায় অ্যাডভান্স ডেভেলপার কোম্পানির স্বত্বাধিকারী মো. আব্দুল হান্নানের বিরুদ্ধে ফ্ল্যাট বিক্রি, টাকা গ্রহণ, জমি ও মামলা সংক্রান্ত নানা অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে প্রভাব বিস্তার এবং মামলা দিয়ে হয়রানির ভয় দেখানোর মাধ্যমে তিনি সাধারণ মানুষকে চাপে রাখেন।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মো. আব্দুল হান্নানের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাঁর ম্যানেজারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও পরে মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
অভিযোগকারী নয়ন বাড়ৈ জানান, মিরপুর-২ এলাকায় একটি ফ্ল্যাট কেনার জন্য তিনি ৯৩ লাখ টাকা নগদ এবং আরও ৩৩ লাখ টাকার একটি চেক দেন। তাঁর দাবি, ফ্ল্যাটটির মূল্য পরিশোধ করার পরও ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী আব্দুল হান্নান তাকে ফ্ল্যাটে উঠতে দিচ্ছেন না। জমির মালিক নাজমুল ইসলাম মারা যাওয়ার পর থেকেই বিষয়টি নিয়ে নতুন করে জটিলতা তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
নয়ন বাড়ৈর আরও অভিযোগ, ফ্ল্যাট বুঝে দেওয়ার পরিবর্তে উল্টো তার বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করা হয়েছে। এতে তিনি আর্থিক ও মানসিকভাবে চরম বিপর্যয়ের মধ্যে পড়েছেন বলে দাবি করেন।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আব্দুল হান্নানকে এলাকায় ‘মামলাবাজ হান্নান’ নামে অনেকে চেনেন। তাদের অভিযোগ, জমি ও ফ্ল্যাট সংক্রান্ত বিরোধে মামলা-মোকদ্দমাকে চাপ তৈরির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, আব্দুল হান্নান বিভিন্ন সময়ে আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও অন্যান্য রাজনৈতিক পরিচয়ের সঙ্গে নিজেকে সম্পৃক্ত হিসেবে উপস্থাপন করেছেন। রাজনৈতিক পরিচয়কে ব্যবহার করে প্রভাব বিস্তারেরও অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। একই সঙ্গে স্থানীয়দের কেউ কেউ দাবি করেন, তিনি একসময় এ কে রিয়েল এস্টেট কোম্পানিতে হিসাবরক্ষক হিসেবে প্রায় ১০ বছর কাজ করেছেন। পরবর্তীতে অনিয়মের অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটি থেকে তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল বলেও দাবি করেন তারা। এসব দাবিরও স্বাধীনভাবে যাচাই প্রয়োজন।
সরেজমিনে মিরপুর-২ এলাকায় তথ্য সংগ্রহের সময় আব্দুল হান্নানের অফিসে সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে নিরাপত্তাকর্মীরা গেট বন্ধ করে দেন বলে অভিযোগ। পরে তাঁর ম্যানেজারের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়টি মালিককে জানিয়ে বক্তব্য দেওয়ার কথা বলেন। এরপর একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।
ভুক্তভোগী ও স্থানীয়দের ভাষ্য, শুধু নয়ন বাড়ৈ নন, আরও কয়েকজন ব্যক্তি অ্যাডভান্স ডেভেলপার কোম্পানি ও এর স্বত্বাধিকারীর বিরুদ্ধে জমি ও ফ্ল্যাট সংক্রান্ত অভিযোগ করেছেন। এসব অভিযোগের মধ্যে টাকা নেওয়ার পর ফ্ল্যাট বুঝিয়ে না দেওয়া, জমি নিয়ে বিরোধ এবং মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগ রয়েছে।
ভুক্তভোগীদের দাবি, অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা বের করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে যারা ফ্ল্যাট কেনার জন্য অর্থ দিয়েছেন, তাদের আইনানুগভাবে প্রাপ্য ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করারও দাবি জানান তারা।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ফ্ল্যাট মালিক সমিতি এবং মিরপুর মডেল থানা অবগত রয়েছে বলেও দাবি করেন কয়েকজন ভুক্তভোগী। পাশাপাশি রিয়েল এস্টেট খাতের সংশ্লিষ্ট সংগঠনের কাছেও অভিযোগগুলো তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
অভিযোগের বিষয়ে আব্দুল হান্নানের বক্তব্য জানতে তাঁর মিরপুর-২ কার্যালয়ে গিয়ে এবং ম্যানেজারের মাধ্যমে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাঁর বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হবে।