এ আই নির্মিত প্রতীকী ছবি রাজধানীর খিলক্ষেত ও মানিকদী এলাকায় এক বীর মুক্তিযোদ্ধা ও দুবাই প্রবাসীর কষ্টার্জিত সাড়ে ৯ কোটি টাকার ব্যাংক তহবিল জালিয়াতি এবং ৫টি বহুতল ভবনসহ বিপুল সম্পত্তি আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে বড় ভাই শাহাদাত হোসেন মজুমদারের বিরুদ্ধে। শুধু সম্পত্তি দখলই নয়, অসুস্থ ও প্রবীণ পিতা-মাতাকে জোরপূর্বক জিম্মি করে রাখা, জিম্মি অবস্থায় মায়ের মৃত্যু এবং প্রতিবাদ করায় মেজ মেয়ে আমিনা মজুমদারসহ দুই বোনকে দফায় দফায় সশস্ত্র হামলা ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
অভিযোগের বিবরণ থেকে জানা যায়, ভুক্তভোগীদের পিতা মো. গোলাম মোস্তফা মজুমদার ও মেজ মেয়ে আমিনা মজুমদার দীর্ঘ ২৭ বছর দুবাইতে আইটি ও রিয়েল এস্টেট ব্যবসা করে দেশে বিপুল পরিমাণ রেমিট্যান্স পাঠান। সেই অর্থ দিয়ে মানিকদী বাজারে একটি সাড়ে পাঁচ তলা বাড়ি, একটি টিনশেড বাড়ি, খিলক্ষেতে একটি সাড়ে দুই তলা বাড়িসহ মোট ৫টি বহুতল ভবন ও স্থাপনা নির্মাণ করা হয়। এছাড়া খিলক্ষেত বটতলা এলাকায় ৫টি দোকান, খিলক্ষেতে তিন কাঠা জমি এবং পিতার নামে পূবালী ও ট্রাস্ট ব্যাংকে বিপুল অংকের ফিক্সড ডিপোজিট রাখা হয়।
নথিপত্র অনুযায়ী, বড় ভাই শাহাদাত হোসেন মজুমদার গত বছরের মাঝামাঝি সময়ে দুবাই থেকে দেশে ফিরে আরটিজিএস এবং চেকের সই জালিয়াতির মাধ্যমে পিতার অ্যাকাউন্ট থেকে ৫ কোটি ২৮ লাখ ৯৪ হাজার ৭৫ টাকা এবং ট্রাস্ট ব্যাংকের প্রিন্সিপাল শাখা থেকে আরও ৪ কোটি টাকার এফডিআর আত্মসাৎ করেন। এছাড়া পূবালী ব্যাংকের আরও ৫৪ লাখ টাকা সই জাল করে তুলে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
ভুক্তভোগী আমিনা মজুমদার ও ফাতেমা পারভীন জানান, তাদের পিতা (৮৫) বর্তমানে ডিমেনশিয়া ও পার্কিনসন্স এবং মাতা (৭৫) আলঝেইমার্স রোগে আক্রান্ত হয়ে শয্যাশায়ী ছিলেন। গত ৭ মার্চ বড় ভাই শাহাদাত ও তার স্ত্রী ফারহানা আক্তার মনি দুই বোনের হেফাজত থেকে অসুস্থ পিতা-মাতাকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে মাটিকাটা এলাকার একটি ভবনে জিম্মি করে রাখেন। পরবর্তীতে সেখানে চিকিৎসাধীন বা জিম্মি অবস্থায় মায়ের মৃত্যু হয়।
মায়ের মৃত্যুর পর অবশিষ্ট সম্পত্তি ও বাড়ি সম্পূর্ণ দখলের উদ্দেশ্যে গত ১৫ আগস্ট ও ৩ সেপ্টেম্বর শাহাদাত তার শ্যালক ফয়সাল আহমেদসহ ৪০-৫০ জন সন্ত্রাসী নিয়ে খিলক্ষেতের বাসায় সশস্ত্র হামলা চালান। হামলাকারীরা বাসার সিসিটিভি ক্যামেরা ও ডিভিআর লুট করে এবং দুই বোনকে মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে বাড়ি থেকে উচ্ছেদ করার পাঁয়তারা চালায়।
এই ঘটনায় আমিনা মজুমদার খিলক্ষেত থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। এছাড়া ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গুলশান বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) ও দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বরাবর লিখিত আবেদন জানিয়ে আইনি ব্যবস্থার দাবি জানানো হয়েছে।
ভুক্তভোগী আমিনা মজুমদার আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, ‘আমাদের বড় ভাই পৈত্রিক বাড়িগুলো তড়িঘড়ি বিক্রি করার চেষ্টা চালাচ্ছে। আমাদের আশঙ্কা, মানিকদী বাজার ও খিলক্ষেতের এসব বাড়ি বিক্রির টাকা হাতে পেলেই সে আমাদের অবশিষ্ট অসুস্থ পিতাকে হত্যা বা গুম করে সম্পূর্ণ টাকা নিয়ে বিদেশে পাড়ি জমাবে।” অসহায় দুই বোন তাদের পিতাকে উদ্ধার এবং অভিযুক্ত শাহাদাত হোসেন মজুমদারের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করার জন্য প্রশাসনের দ্রুত ও কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।’
খিলক্ষেত থানা পুলিশ জানিয়েছে, লিখিত অভিযোগ ও জিডির বিষয়টি খতিয়ে দেখে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। তবে অভিযুক্ত বড় ভাইকে এ বিষয়ে বক্তব্য নেয়ার জন্য যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও কোনো বক্তব্য বা প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।