মোস্তফা কামালআর্টিফিশিয়াল ইন্টেজিন্সসহ স্যোশাল মিডিয়ার ক্রমবর্ধমান বিকাশ ও দ্রুত সম্প্রসারণের সুফল দেশে দেশে ইতিবাচকভাবে কাজে লাগাতে যুক্তরাষ্ট্রে বিশ্বসভার ৮১তম অধিবেশনে একটি কার্যকর নীতিমালার দাবি জানিয়েছেন প্রধান মন্ত্রী তারেক রহমান। তা সমর্থন করেছেন বিশ্ব নেতারা। করেছেন তার এমন সুচিন্তার প্রশংসাও। দেশীয় পরিমণ্ডলেও চলছে সেই চেষ্টা। সমান্তরাল বাস্তবতায় দেশে চলছে গুজব, মানহানি ও ভুয়া কনটেন্ট বাণিজ্য। মতপ্রকাশের স্বাধীনতার নামে রাজনৈতিক ও রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি নিয়ে কনটেন্ট প্রকাশ ও প্রচার যেভাবে হচ্ছে, তা আদৌ মতপ্রকাশের স্বাধীনতার আওতায় পড়ে কি না, সে বিষয়ে সংজ্ঞা নির্ধারণ জরুরি হয়ে পড়েছে। সেনাসহ দেশের অন্যান্য বাহিনী ও বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদেরও এ নিপাতন থেকে রেহাই মিলছে না। বরং মাত্রাগতভাবে তা আরো বেশি করা হচ্ছে।
স্যোশাল তথা ভার্চুয়াল মিডিয়া এবং অনলাইনভিত্তিক প্ল্যাটফর্মে বাহিনী, বাহিনী প্রধান ও শীর্ষ কর্মকর্তাদের নিয়ে যাচ্ছেতাই কল্প-কিচ্ছা বানানোর ধুম পড়েছে নতুন করে। সেনা, বিমান, নৌ- তিন বাহিনী সম্পর্কে বানোয়াট তথ্য এমনকি অপমানজনক, বিরক্তিকর ও মানহানিকর কনটেন্ট তৈরির প্রবণতা চরম উদ্বেগজনক পর্যায়ে। সেখানে এবার বিশেষ বা হাই ভোল্টেজ টার্গেটে বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড-বিজিবি এবং এর প্রধান মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী। বিভ্রান্তিকর ও চরম উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বুলিংয়ের শিকার বাহিনীটি। তা করতে গিয়ে চব্বিশের জুলাই-আগস্টের ঘটনাবলিকে এমনভাবে তরতাজা করা হচ্ছে যেন এগুলো কয়েকদিন আগের ঘটনা। কেবল অপতথ্য নয়, ভিডিও পর্যন্ত ছেড়ে দেয়া হয়েছে। এতে চব্বিশের জুলাই-আগস্টে বিজিবির গুলিতে ৮৬ জন নিহতের দাবিই নয়, বিভিন্ন জায়গায় নির্বিচার গুলিবর্ষণ এবং ঊর্ধ্বতন পর্যায় থেকে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়ার মতো অভিযোগ পর্যন্ত দাঁড় করানো হয়েছে বিশেষ এজেন্ডা নিয়ে। এতে মহাপরিচালকের কোনো নির্দিষ্ট নির্দেশ কীভাবে কোনো নির্দিষ্ট মৃত্যুর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে, তার নির্ভরযোগ্য প্রমাণ নেই। বিভিন্ন ঘটনা, সাক্ষ্য, স্থিরচিত্র ও চলমান তদন্তের তথ্য পাশাপাশি সাজিয়ে মহাপরিচালককে ব্যক্তিগতভাবে দোষী সাব্যস্ত করার হীন চেষ্টাও স্পষ্ট। বিটিভি ভবনে হামলা ও অগ্নিসংযোগের প্রেক্ষাপটে দেওয়া মহাপরিচালকের একটি বক্তব্য এমনভাবে বারবার ঘুরিয়েফিরিয়ে আনা হয়েছে, যেন তিনিই সব। বক্তব্যটি ছিল কেবলই সরকারি সম্পদ ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা নিয়ে ছিল। সেখানে কোনো শিশু বা কিশোরের মৃত্যুর প্রসঙ্গ ছিল না। বক্তব্যের পূর্ণ প্রেক্ষাপট বাদ দিয়ে পরবর্তী প্রাণহানির দৃশ্যের সঙ্গে সেটি যুক্ত করে দেয়া হয়েছে।
মহাপরিচালক ও ব্যাটালিয়ন অধিনায়কের কথোপকথনের স্থিরচিত্র ব্যবহারও উদ্দেশ্যে ভরপুর। মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তাদের সঙ্গে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বৃফিং ও পরিদর্শন স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার অংশ। কোনো স্থিরচিত্রের ভিত্তিতে নির্দিষ্ট কোনো নির্দেশ দেওয়ার সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। বাহিনীর প্রধান হওয়ার কারণে অধীনস্থ প্রত্যেক সদস্যের প্রতিটি কর্মকাণ্ডের ব্যক্তিগত দায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে মহাপরিচালকের ওপর বর্তায় না। কমান্ডের দায় নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বেআইনি কর্মকাণ্ড সম্পর্কে জানতেন কি না, এমন নির্দেশ দিয়েছিলেন কি না অথবা তা প্রতিরোধ বা পরবর্তী ব্যবস্থা নিতে ইচ্ছাকৃতভাবে ব্যর্থ হয়েছিলেন কি না—এসব বিষয় বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন। সিলেটের গোলাপগঞ্জ, রাজধানীর রামপুরা, নরসিংদীর ড্রিম হলিডে পার্কের ঘটনা নিয়েও বিজিবিকে জড়িয়ে কল্পকাহিনীর ছড়াছড়ি। নরসিংদীর ড্রিম হলি ডেতে তো বিজিবির কোনো ক্যাম্পই ছিল না।
বাংলাদেশের মতো দুর্যোগ-দুর্বিপাকসহ জাতীয় নানা প্রয়োজনে সেনাবাহিনীর ওপর ভরসা করার দৃষ্টান্ত বিশ্বে কম দেশেই আছে। আবার সেনাবাহিনী নিয়ে অবান্তর কথা, আজেবাজে ন্যারেটিভ তৈরির প্রবণতাও বিশ্বে বিরল। আরোপিত দোষারোপ, উড়িয়ে দেওয়া, গুঁড়িয়ে দেওয়া, ইট খুলে ফেলা, বিলুপ্ত করে দেওয়ার মতো কিছু একটা বলে কিছু দিন ঝিম মেরে থাকার মহলটি চিহ্নিত। চব্বিশের জুলাই-আগস্ট বিপ্লবের পর এ রোগটি সেরে যেতে পারত। কিন্তু, মাঝেমধ্যেই রোগ চাগাড় দেওয়ার লক্ষণ ভর করছে। সেই সঙ্গে আচানক-আজগুবি, রাতের ঘুম নষ্ট করা গুজবের হাট।
রাজধানীর পুরান ঢাকায় একটি শ্লোক খুব প্রচলিত। সেটি হলো—‘নখ নিয়া যেমন-তেমন, চোখ নিয়া ঢং না।’ এ শ্লোকটির মাহাত্ম্য হচ্ছে মানুষের ভরসার শেষ অবলম্বন নিয়ে হেলাফেলা না করা। বুঝতে কারো বাকি থাকার বিষয় নয় যে যেকোনো দেশের ক্রান্তিকালের কান্ডারি সেনাবাহিনী। বাংলাদেশের জন্য তা আরো বেশি প্রযোজ্য। জাতিগত ঐক্য ও সংহতির এই প্রতীককে বিতর্কের ঊর্ধ্বে না রাখলে ভরসার জায়গাও অবশিষ্ট থাকে না। কখনো তা না বুঝে, কখনো জেনে-বুঝেও সেনাবাহিনীকে বিরক্ত-বিব্রত করার অপচেষ্টা চলে। কোনো না কোনো ইস্যুতে বা উছিলায় সেনাবাহিনীকে চটানোর সূক্ষ চেষ্টা দৃশ্যমান। এ চেষ্টায় সফল হলে দেশে একটি নৈরাজ্য বা ভজকট পাকানোর আশাবাদী গোষ্ঠীই লাভবান হয়। সম্প্রতি এরা যারপরনাই আদাজল খেয়ে নেমেছে। হালে পানি না পেলেও এরা হাল ছাড়ছে না। এবার তাদের বিশেষ লক্ষ্যবস্তুতে সীমান্তে জীবনবাজি রেখে এগিয়ে চলা বিজিবি এবং এর প্রধান। তাকে নিশানা করে গুজব-অপতথ্য ছড়ানোর মিশনটি বেশ জোরদার। যা ইচ্ছা ছড়িয়ে বাজার গরমের চেষ্টা করছে। খেলাটি পুরনো, আয়োজনে একটু নতুনত্ব। বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত পৃথিবীর দীর্ঘতম সীমান্তগুলোর একটি, প্রায় ৪,১৫৬ কিলোমিটার। এই দীর্ঘ সীমান্তের দুই পাশে বসবাসকারী মানুষের সম্পর্ক কেবল দুটি ভিন্ন দেশের নাগরিকের আইনি সম্পর্ক নয়; এখানে আরো অনেক রসায়ন। বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের ৫৫ বছরের ইতিহাসে নতুন পথরেখা ও দৃষ্টান্ত তৈরি করেছে বিজিবি।
বাংলাদেশের তিন দিকে ভারতের তিনটি রাজ্য: পূর্বে ত্রিপুরা, উত্তরে আসাম ও পশ্চিমে পশ্চিমবঙ্গ। সেখানে বিজেপি রাজ্য সরকার গঠন করেছ। কেন্দ্রেও আছে বিজেপি সরকার। আরেক কঠিন বাস্তবতা হলো, ভারতের সঙ্গে সীমান্ত ভাগাভাগি করা বাংলাদেশের ৬৪ জেলার প্রায় অর্ধেক জেলায় বসবাসকারী কোটি কোটি মানুষের স্বার্থ এই সীমান্তে নিরাপত্তা ও সুস্থ ব্যবস্থাপনার ওপর অনেকাশে নির্ভরশীল। একটি বিশাল ভূখণ্ড হিসেবে ভারতের সীমান্ত রয়েছে বাংলাদেশ, পাকিস্তান, চীন, নেপাল, মিয়ানমার, ভুটান ও আফগানিস্তানের সঙ্গে। এর মধ্যে সীমান্তে নিরীহ গ্রামবাসী এমনকি নারী ও শিশু হত্যার ঘটনা কেবল বাংলাদেশের সীমান্তেই ঘটে, যা দুর্ভাগ্য ও উদ্বেগজনক। বাংলাদেশের প্রায় চারদিকেই ভারতীয় সীমান্ত। এসব সীমান্ত সমতলভূমি, পাহাড়, বন-জঙ্গল, নদী ও সাগরের জলরাশি বিস্তৃত। ফলে সমতল ভূমি ছাড়া অন্যান্য স্থানে দুই দেশের সীমানা সুনির্দিষ্ট করা প্রায় অসম্ভব। আরো এক কঠিন বাস্তবতা: বর্তমানে বাংলাদেশে নিষিদ্ধ ঘোষিত অন্যতম রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের সর্বোচ্চ পর্যায়ে থেকে তৃণমূল পর্যায়ের বহু নেতাকর্মীর অবস্থান ভারতে। সেইসঙ্গে চলছে উদ্দেশ্যবাদী মহল ও কিছু সংবাদমাধ্যমের বিভ্রান্তি, অপপ্রচার, অপতথ্যের ধুম। এর মাঝেই বিজিবি মহাপরিচালকের নেতৃত্বে বাংলাদেশের প্রতিনিধি দল সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে সীমান্ত হত্যা ও পুশ-ইনের বিষয়টি সাহসের সাথে উত্থাপন। বিশেষ করে সীমান্তে নিরীহ ও নিরস্ত্র বাংলাদেশি নাগরিকদের প্রাণহানি বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা তথা হত্যা শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনার বিষয়ে বাংলাদেশের দৃঢ় অবস্থান জয়েন্ট রেকর্ড অব ডিসকাশনস-জেআরডিতে লিপিবদ্ধ হয়েছে। বাদ যায়নি আন্তর্জাতিক সীমান্তের ১৫০ গজের মধ্যে অবৈধ অবকাঠামো নির্মাণ, মাদক চোরাচালান, সীমান্ত নিরাপত্তা এবং পার্বত্য অঞ্চলের সশস্ত্র গোষ্ঠীর কার্যক্রমের কথাও।
চব্বিশের ৫ আগস্ট পরবর্তীতে রূপান্তরিত পরিস্থিতিতে জনগনকে সঙ্গী করে সীমান্ত হত্যা, পুশ-ইন, কাঁটাতার স্থাপন, মাদক ও মানবপাচার প্রতিহত করা, মায়ানমার সীমান্তের অস্থিতিশীলতা এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চলে সশস্ত্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে বিজিবির সাহসী ভূমিকা বাহিনীটির প্রধানসহ বিজিবি জনমনে কেবল আস্থা ফেরায়নি, নতুন ভরসাও জাগিয়েছে। আন্তর্জাতিক আইন অমান্য করে ভারতীয় রক্ষীবাহিনী বিএসএফের যেকোনো ‘পুশইন’ রুখে দিচ্ছে দৃঢ়তার সাথে। দেশের সীমান্ত ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় এ কার্যক্রমে স্বতঃস্ফূর্তভাবে স্থানীয়দের সম্পৃক্ত করতে পারা একটি মাইলফলক ঘটনা। এর প্রতিশোধের অংশ হিসেবে বিজিবির শীর্ষ নেতৃত্বকে প্রমাণহীন ব্যক্তিগত আক্রমণের অপচেষ্টা। যখন কেবল দেশে নয়, বিহির্বিশ্বেও বিজিবির সাহস ও ক্যারিশমা স্যালুট পাচ্ছে, সেখানে যোগ করা হচ্ছে খোঁচাসহ অপতথ্য ও বিভ্রান্তি। প্রশ্ন আসছে, বাহিনীটিকে ক্ষেপাতে বা ব্যর্থ করতে পারলে লাভ কার?
এরইমধ্যে জল ও স্থলের পাশাপাশি এয়ার উইংয়ে হেলিকপ্টার সংযোজনের মাধ্যমে বিজিবি এখন আকাশপথেও সক্ষমতা অর্জন করেছে। দুর্গম পাহাড়ি ও নদীবেষ্টিত সীমান্ত এলাকায় বিজিবির টহল মানুষকে আশাবাদী করে তুলেছে। ‘বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ ভিশন-২০৪১’ এর আওতায় আধুনিক অস্ত্র ও প্রযুক্তি যুক্ত করা হচ্ছে। গোয়েন্দা কার্যক্রম জোরদার করতে আধুনিক সার্ভেইলেন্স সরঞ্জাম ব্যবহার করা হচ্ছে। দেশের ৪,৪২৭ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত রক্ষা ও চোরাচালান রোধে বাহিনীটি অতন্দ্র প্রহরী। পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরীণ শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষা, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ত্রাণ ও উদ্ধার কাজ তো করছেই। তাদের কোথাও যেতে নেই মানা। আজকের বিজিবি শুধু সশস্ত্র প্রহরী নয়, পাহাড়ের মানুষের বন্ধুও। যেখানে টপ-টু-বটম বিজিবি সদস্যদের মনোবল ও কর্মস্পৃহা বাড়ানোতে বর্তমান ডিজির ভূমিকা ও কর্মকৌশল সবমহলে প্রশংসিত, সেখানে মহলবিশেষের কাছে তা ঈর্ষার। দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা, আন্তঃসীমান্ত অপরাধ দমন, মানবিক সহায়তা তথা জাতীয় সংকটে জনগণের পাশে দাঁড়িয়ে যেতে অভ্যস্ত বাহিনীটি সীমান্ত ছাড়িয়ে শহুরে জনপদ থেকে দূরে, বহু দূরে- দুর্গম পাহাড়, গহীন অরণ্য, উত্তাল নদী, চরাঞ্চল কিংবা উপকলের লবণাক্ত জনপদ; যেখানে প্রতিক‚লতা সেখানেই নতুন চ্যালেঞ্জেও পারঙ্গম। যে চ্যালেঞ্জের পরতে পরতে অদম্য সাহস, ধৈর্য, জীবনের ঝুঁকি। পার্বত্য চট্টগ্রামে দীর্ঘদিনের অস্থিরতা নিরসন ও শান্তি প্রতিষ্ঠায়ও তাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। শান্তি প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে শিক্ষা, চিকিৎসা, কারিগরি প্রশিক্ষণ এবং সামাজিক উন্নয়নমূলক কার্যক্রম পরিচালনায় বিজিবির সিরিজ ভূমিকার সমান্তরালে সাম্প্রতিক সীমান্ত উত্তেজনা প্রশমন ও পুশ-ইন প্রতিরোধে যোগ হয়েছে নতুন পালক। সময়ের পরিক্রমায় বিজিবি আজ প্রযুক্তিনির্ভর বর্ডার ম্যানেজমেন্ট বা সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় নতুন মানদণ্ড গড়ে তুলেছে। সেখানে প্রধানমন্ত্রী যোগ করেছেন বাহিনীটিকে সময়োপযোগী আরো জনবান্ধব করার অভিপ্রায়। দেশের প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রী যখন সীমান্ত বাহিনীকে আরো উচ্চমানে আধুনিক ও সুসংহত করতে চান, তখন বিজিবি প্রধানকে নিয়ে মনগড়া কিচ্ছার মচ্ছব।
গুজব এবং ভুয়া কনটেন্ট বানিয়ে মানুষের মনোবল ভেঙে দেওয়া বর্তমানে একটি সুপরিকল্পিত এবং আন্তর্জাতিক স্তরের মাস্টারপ্ল্যান। তথ্যপ্রযুক্তির অপব্যবহার এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে হাতিয়ার করে এ অপতৎপরতার ফের একদম না বোঝার নয়। উদ্দেশ্য পরিস্কার। প্রথমত. সঠিক তথ্যের অনুপস্থিতিতে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে রাষ্ট্রে বা সমাজে বিশৃঙ্খলা ও দাঙ্গা-হাঙ্গামা তৈরি করা। দ্বিতীয়ত. প্রচলিত শাসনব্যবস্থা, দেশের উন্নয়নমূলক কাজ এবং মূলধারার গণমাধ্যমের ওপর থেকে মানুষের আস্থা ধূলিসাৎ করা। যেকোনো চাঞ্চল্যকর খবর বা ভিডিও দেখেই বিশ্বাস না করে বিশ্বস্ত তথ্য যাচাইকারী সাইট বা মূলধারার গণমাধ্যমের খবর মিলিয়ে দেখার প্রবণতা এখনো দেশে সেভাবে গড়ে ওঠেনি। তথ্যটি কোথা থেকে ছড়াচ্ছে—তার নির্ভরযোগ্য কোনো সোর্স বা লিংক আছে কি না, তা যাচাই করা আবশ্যক। কোনো তথ্য যাচাই ছাড়া সেখান থেকে কয়েক লাইন নেয়া, শেয়ার বা ফরওয়ার্ড করা থেকে বিরত থাকা উচিত। কারণ একটি শেয়ারও গুজবের ডালপালা ছড়াতে সাহায্য করে। দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার স্বার্থে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সব ধরনের বিতর্ক ও প্রোপাগান্ডার ঊর্ধ্বে রাখা প্রয়োজন। কারো ব্যক্তিগত কোনো অপরাধ বা বিচারাধীন বিষয়কে সমগ্র প্রতিষ্ঠানের ওপর না চাপিয়ে প্রাতিষ্ঠানিক কমান্ড ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার ওপর জোর দেওয়ার বিষয় রয়েছে।
লেখক পরিচিত:
মোস্তফা কামাল
সাংবাদিক-কলামিস্ট, ডেপুটি হেড অব নিউজ, বাংলাভিশন (বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল)।