শত্রু ভয়ঙ্কর, পথ চলতে সাবধান

শাহীন রাজা

মতামত

শত্রু কখন এবং কোথায় ! বসে আছে নিশ্চুপ, নিঃশব্দ ! অপেক্ষায়, অপেক্ষমাণ।শুধু মাত্র সময় এবং সুযোগের অপেক্ষায়। সময় হলেই একটু-ও

2026-10-04T20:27:59+06:00
2026-10-04T20:27:59+06:00
বৃহস্পতিবার ● ৮ অক্টোবর ২০২৬
২৩ আশ্বিন ১৪৩৩
শিরোনাম:
মতামত
শত্রু ভয়ঙ্কর, পথ চলতে সাবধান
শাহীন রাজা
প্রকাশ: রোববার, ৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:২৭ পিএম  
শাহীন রাজা । ছবি: লেখক সৌজন্য
শত্রু কখন এবং কোথায় ! বসে আছে নিশ্চুপ, নিঃশব্দ !   অপেক্ষায়, অপেক্ষমাণ। 

শুধু মাত্র সময় এবং সুযোগের অপেক্ষায়। সময় হলেই একটু-ও বিলম্ব করবে না ! আপনার, আমার এবং আমাদের পায়ে, পায়ে এরা হাটছে। আমরা টের পাচ্ছি, গায়ে আছড়ে পড়া তাদের শীতল নিঃশ্বাস। যে কোন সময় !  যে কোন সময় পেছন সজোরে কুড়াল চালিয়ে দেবে। সতর্ক, সন্তর্পণে আমাদের চলতে হবে। কেননা একাত্তরের পরাজিত রাজাকার আর চব্বিশের বিতারিত স্বৈরাচারের উদ্দেশ্য এক ও অভিন্ন। কি করে একটা নির্বাচিত সরকারকে বেকায়দায় ফেলবে। এবং জল ঘোলা করে মাছ শিকার করা।  

দেশকে অরাজকতা বা নৈরাজ্যের পথে হাটতে দেয়া যাবে না। চব্বিশে পরাজিত স্বৈরাচার আর এবং একাত্তরের পরাজিত শক্তিকে কতটা ছাড় দেয়া যায় তা চিন্তাভাবনা করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। মনে রাখতে হবে, জনগণ বিরোধীদের কোন মানবিকতা থাকে না। সুযোগ পেলেই তারা জনগণের ঘাড়ে চেপে বসতে চায়। স্বৈরাচার এরশাদের আমলে ছিয়াশির নির্বাচনের মধ্য দিয়ে যে জোট হয়েছিল,তা সবসময়ই আছে। রাজনৈতিক বা আদর্শগত ভিন্নতা থাকতে পারে। কিন্তু ক্ষমতা শেয়ারের ক্ষেত্রে তারা এক এবং অভিন্ন। ৮৬, ৯৬, ২০০৮ নির্বাচন প্রমাণ করেছে এক হয়ে গিয়েছে। ২০২৬ সালের নির্বাচনে-ও এই জোট দেশের অনেক জায়গায় এক হয়ে কাজ করেছে। তারপরও জনগণের আকাঙ্খা'র কাছে পরাজিত হয়েছে। এই পরাজয় তারা মেনে নিতে পারেনি। তা-ই বর্তমান নির্বাচিত সরকারকে বিব্রত করতে নানা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। নানাভাবে মিথ্যা এবং গুজব ছড়িয়ে চলছে। 

এই মিথ্যা এবং গুজবে সাধারণ মানুষ অনেক সময় বিভ্রান্ত হয়ে যায়। তবে সম্প্রতি, রাড্ডা হাসপাতালের কর্মকাণ্ডে দলীয় সাংসদের পদত্যাগ। একই সাথে ঢাকা মহানগর বিএনপি উত্তরের কমিটি ভেঙে দেয়া। যা সরকারকে গুজবে'র ধোয়া থেকে বেড় করে নিয়ে এসেছে। বাংলা মোটরের ঘটনার সাথে জড়িত সকলকে গ্রেপ্তারে প্রমাণিত হয়েছে সন্ত্রাসীদের জায়গা এই সরকারের কাছে নেই। যা আগের সরকারের আমলে ভাবাই যেতনা। 

সম্প্রতি ঢাকা বিমানবন্দরে সাবেক সাংসদ মেজর (অবঃ) আখতারুজ্জামান গোটা জাতিকে বিব্রতকর অবস্থায় ফেলে দেয়। তাকে গ্রেফতারের মধ্য দিয়ে প্রমাণিত হলো, সরকার ঠুটো জগন্নাথ নয়। সরকার পারে! মহিলা সংরক্ষিত আসনের সাংসদের পদত্যাগ এবং মেজর (অবঃ) আখতারুজ্জামানের গ্রেফতারে সরকারের ভাবমূর্তি অনেক ইতিবাচক হয়ে উঠেছে। 

মেজর আখতার ঢাকা বিমানবন্দরে যা করেছে তা বিশ্বের যে কোন দেশে করলে তাৎক্ষণিক গ্রেফতার হতেন। আর যদি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কোন বিমানবন্দরে এধরণের আচরণ করতেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা মেঝেতে ফেলে হাতে হাতকড়া পড়াতো। তবে ঢাকা বিমানবন্দর সুরক্ষিত নয়। বিমানবন্দর একটি সুরক্ষিত এবং সংবেদনশীল এলাকা। পৃথিবীর কোন বিমানবন্দরে ভিডিও করার কোন সুযোগ নেই। আমাদের দেশের বিমানবন্দরে তা অহরহ হচ্ছে। কর্তৃপক্ষের ভূমিকা কি তা বোধগম্য হচ্ছে না। বিমানবন্দরে মেজর আখতার যেদিন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটায় সেদিন এক মহিলাকে বিমানবন্দরের অব্যবস্থাপনা নিয়ে ভিডিও করতে দেখা যায়। পরে জানা গেল, সে জামাত পরিবারের একজন সদস্য। মেজর আখতার এবং একই বিমানে করে ঢাকায় নেমেছেন। এবং একই কাফেলার সদস্য। এ থেকে প্রমাণিত হয়, এরকম একটা ঘটনা ঘটাবে তা তারা যাত্রা'র শুরু থেকে পরিকল্পনা করে এসেছে। বিমানবন্দরে মঞ্চস্থ হয় তাদের নাটক।

কাছাকাছি সময়ে এক কন্টেন্ট ক্রিয়টরের স্টুডিও ভাঙচুর নিয়ে দেশে তুমুল হৈচৈ পড়ে যায়। কন্টেন্ট ক্রিয়টর ভাঙচুরের পরপরই থানায় মামলা না করে ঘটনার জন্য বিএনপি দলীয় লোকদের দায়ী করে বসেন। পরবর্তীতে জানা যায় ঘটনাটি চাদাবাজি নয়। জমি দখল এই ঘটনার মূল উৎস। অথচ তীর ছুড়ে দেয়া হয় বিএনপির বিরুদ্ধে। পরবর্তীতে সরকার উত্তেজনার বশবর্তী না হয়ে ঠান্ডা মাথায় যে প্রক্রিয়ায় এগিয়েছেন, তা বুদ্ধিমত্তার পরিচায়ক। পরবর্তীতে বিরোধী পক্ষের লোকেরা গুজব ছড়ানো আগে চিন্তাভাবনা করবে। সাম্প্রতিক ঘটনা মোকাবেলায় সরকার যে পদক্ষেপ নিয়েছে তাতে জনগণ সরকারকে, সরকার ভাবতে শুরু করেছে। 

তবে সরকারি দলের লোকেরা একেবারে চাদাবাজির সাথে জড়িত নয়, এইটাও বলা যাবে না। দেশের বিভিন্ন হাটবাজার, মহাসড়কে পৌরসভার নামে চাদাবাজি চলছে। চলছে বিভিন্ন সংগঠনের নামে। এ-ই সকল অর্বাচীন চাদাবাজদে গ্রেফতার এবং সাজা দিতে হবে। এটা না হলে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর চাদাবাজ হিসেবে যে প্রচারণা শুরু হয়েছে তা প্রোথিত হয়ে যাবে। বিরোধী পক্ষ বিএনপিকে চাদাবাজ হিসেবে প্রচারণা চালিয়ে আসছে তা বাস্তবায়ন হবে। চাদাবাজ মানে কোন দলের নয়। তার পরিচয় হচ্ছে, চাদাবাজ। দেশ এবং মানুষের কল্যাণে দলমত নির্বিশেষে সকল চাদাবাজকে আইনের আওতায় এনে শাস্তি দিতে হবে। 

এদিকে স্বৈরাচারের দোষররা আজ মানবতার কথা বলছে। গত ১৬ বছরে, তারা একবারও মানবতা নিয়ে একটা শব্দ-ও উচ্চারণ করেনি। এরা শীতের সকালে শর্ষে'র মাঠে দুবাহু আকাশে মেলে ছবি তুলেছে। এবং তা পোস্ট করেছে। ঠি ঐ সময় আয়না ঘরের হিমশীতল প্রকোষ্ঠে দুই হাতে শরীর জড়িয়ে উষ্ণ হওয়ার ব্যর্থ চেষ্টা করেছে। অনেকে আবার অভিজাত রেস্তোরায় খাবারে টেবিলের সামনে সুখের হাসি মুখ নিয়ে। খাবার আড্ডায়, উন্নত বাংলাদেশের ছবি আকার চেস্টায় নিবেদিত। 

ঠিক এমন দিনে, স্বজন হারা মা কিংবা স্ত্রী অপেক্ষায় প্রহর গুনে। গুম হয়ে যাওয়া ছেলে বা স্বামী ফিরে কি আবার আসবে ?  খাবার টেবিলে আবার-ও কি ভালোবাসা একসাথে ? 

ঋণের টাকায় নির্মিত স্থাপনায় দাড়িয়ে ছবি তুলে শ্লোগান দেয়, উন্নয়নের বাংলাদেশ! এই উন্নয়ন যে, রাক্ষস হয়ে চেপে বসেছে বাংলাদেশের ঘাড়ে। একবারের জন্য মুখে আনেনি। আজকে তারা মানবতার প্রচারে রাজপথে। হিমশীতল ড্রয়িং রুমে জলের গ্লাস হাতে আড্ডায়! 

একজন সুনাগরিক সবসময়ের জন্য সুনাগরিক। কথা বলা তার জন্মগত অধিকার। কালো কে কালো এবং সাদাকে সাদা বলা। এমন সংস্কৃতি সবসময়ের থাকতে হবে। দল অন্ধ লোক কখনোই সুনাগরিক হতে পারে না। তাই কথা বলার আগে ভাবতে হবে, স্বৈরাচার আমলে পাহাড় সম অনিয়মে তার বক্তব্য ছিল কি রকম ? 

বাস্তবতার আলোকে এবং সত্য আলোয় বাংলাদেশকে এগুতে হবে। বর্তমানে বাংলাদেশের রাজনীতিতে প্রধান শত্রু হচ্ছে, গুজব!   সাম্প্রতিক তথ্য-প্রযুক্তির যুগে (বিশেষ করে ২০২৪ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে) বাংলাদেশে রাজনৈতিক গুজব ছড়ানোর ধরন ও গতি সম্পূর্ণ বদলে গেছে। আগে যেখানে চায়ের দোকান বা লিফলেটের মাধ্যমে গুজব ছড়াত, এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যালগরিদমকে কাজে লাগিয়ে তা মুহূর্তের মধ্যে কোটি মানুষের কাছে পৌছে দেওয়া হচ্ছে। ভয়েস ক্লোনিং ও ফেক অডিও'র মাধ্যমে রাজীতিবিদ, উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তা বা প্রভাবশালী ব্যক্তিদের কণ্ঠস্বর হুবহু নকল করা হচ্ছে। ভুয়া ফোনালাপ বা গোপন বৈঠকের অডিও তৈরি করা হচ্ছে। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের পর থেকে ২০২৬ সালের বর্তমান সময় পর্যন্ত এই ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এর ফলে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি ও অস্থিরতা তৈরি করতে এই প্রযুক্তি সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হচ্ছে। আমাদের এই কৃত্রিম প্রযুক্তি বাদ দিয়ে প্রকাশ্যে রাজনীতি করতে হবে। এই গুজব পৃথিবীর অনেক দেশ, জাতি এবং সভ্যতা ধ্বংস করে দিয়েছে। আমরা ধ্বংস হতে চাই না। আমাদের আকাঙ্খা একটা সুখী, সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলা।
মতামত- এর আরোও খরব 
সম্পাদক ও প্রকাশক : শফিক রেহমান
অফিস:
যায়যায়দিন মিডিয়াপ্লেক্স
৪৪৬ ই+এফ+জি তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল, ঢাকা ১২০৮
ইমেইল : [email protected]
বিভাগীয় ফোন:
অনলাইন নিউজ- ০১৩৩৫১০৭৭০১, ০১৫৭২১৭৩৭৭৭
বিজ্ঞাপন বিভাগ- ০১৯১২২৯২৩১৩, ০১৭১১১৭৫৩৩১
সার্কুলেশন বিভাগ- ০১৭১২৩৮০৩২৫, ০১৮৩৪৮০০৮৭৭
© ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত