নাটোরে ট্রাক ও বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে প্রাণ গেল ১২ জনের

নাটোর প্রতিনিধি

শেষ পাতা

* বাসটির ফিটনেস সনদের মেয়াদ ছিল না* ঘটনা তদন্তে সাত সদস্যের কমিটি গঠন* এক লাখ টাকা করে পাবে নিহতদের পরিবারনাটোরের

2026-10-21T00:00:00+06:00
2026-10-21T14:19:22+06:00
মঙ্গলবার ● ২৭ অক্টোবর ২০২৬
১১ কার্তিক ১৪৩৩
শিরোনাম:
শেষ পাতা
নাটোরে ট্রাক ও বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে প্রাণ গেল ১২ জনের
যাত্রাবিরতির পর বাসটির চলাচল অস্বাভাবিক হয়ে পড়ে
নাটোর প্রতিনিধি
প্রকাশ: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:০০ এএম  আপডেট: ২১.১০.২০২৬ ২:১৯ পিএম (প্রিন্ট সংস্করণ)

* বাসটির ফিটনেস সনদের মেয়াদ ছিল না
* ঘটনা তদন্তে সাত সদস্যের কমিটি গঠন
* এক লাখ টাকা করে পাবে নিহতদের পরিবার

নাটোরের বড়াইগ্রামে ট্রাক ও বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে ১২ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন অন্তত ৩০ জন। মঙ্গলবার ভোরে উপজেলার বনপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের সামনে নাটোর-পাবনা মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। ঘটনা তদন্তে সাত সদস্যের কমিটি গঠন করেছে জেলা প্রশাসন। আর প্রধান মন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে নিহতদের পরিবারে জন প্রতি এক লাখ টাকা আর্থিক সহায়তার ঘোষণা করা হয়েছে। 

নিহতরা হলেন—  ট্রাক চালক ঝিনাইদহ সদর উপজেলার বরাতলা গ্রামের জাকির হোসেনের ছেলে কামাল হোসেন (৫০), বাসের চালক রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার ফরাদপুর গ্রামের আব্দুল হাকিম ছেলে সোহেল রানা (৪০), বাগমারা উপজেলার চায়নাপাড়া গ্রামের বাবর আলীর ছেলে আনোয়ার হক (৩০), পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার সুবিদখালী গ্রামের শহিদুল ইসলাম (৪৫), তার মেয়ে তাসফিয়া খাতুন (৮), শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার রামকৃষ্ণপুর গ্রামের জহুর উদ্দিনের ছেলে জুয়েল হোসেন (৪০), ডুবি সাহেব গ্রামের জাহান উদ্দিন মোল্লার ছেলে শাহ আলাল মোল্লা (৪৫), আরব আলী ফকিরের ছেলে আব্দুস সামাদ ফকির (৭০), কাজিরহাট গ্রামের রাজ্জাক আলীর ছেলে শাহিন হোসেন (৩৫), ইউনুস আলীর ছেলে সোহাগ আলী (৩০), ফরিদপুরের সদর উপজেলার বাকুমদিয়া গ্রামের দ্বারা পরিজনের ছেলে হিমেল পরিজন (৩০), নওগাঁর সাপাহার উপজেলার কলমুডাঙ্গা গ্রামের মৃত সাজ্জাদ হোসেনের ছেলে রাসেল হোসেন (৩৫)। 

তবে শরীয়তপুর জেলার আলমগীর মাতবর (৫৫), চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার আব্দুস সালাম (৩৫) রাজশাহী মেডিকাল কলেজ হসপিটালে মারা গেছেন বলা হলেও তারা মুমূর্ষু অবস্থায় আইসিইউতে বেচে আছেন বলে জানিয়েছে হাইওয়ে পুলিশ।
এ ছাড়া ওই হসপিটালে  শিবগঞ্জের ওয়াহিদ আলী (২২), মাদারীপুরের নাইম তালুকদার (২০), নারগিস আক্তার (৩৫), বরগুনার জেসমিন আক্তার (৩৫), নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলার চিরঞ্জিত কুমার (২৫), মান্দার মানিক হোসেন (৩৭), শাহাজুল ইসলাম (৩৬), লক্ষ্মীপুরের রাকিব হোসেনসহ (২৫) ১৭ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন। অন্যদের বিভিন্ন হসপিটালে ভর্তি করা হয়েছে। 

বনপাড়া হাইওয়ে থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আলমগীর হোসেন জানান, ভোর সাড়ে ৪টার দিকে নাটোর-পাবনা মহাসড়কে উপজেলার বনপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের সামনে পাবনাগামী বালু বোঝাই ট্রাক ও কুয়াকাটা থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জগামী যাত্রীবাহী বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই নয় জনের এবং হসপিটালে নেয়ার পথে আরো তিন জনের মৃত্যু হয়। আহত হয় অন্তত ৩০ জন।
নাটোর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন উপ-পরিচালক আক্তার হামিদ খান বলেন, পটুয়াখালী জেলার কুয়াকাটা থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জগামী আরপি পরিবহন ও পঞ্চগড় থেকে পাবনাগামী বালুবোঝাই ট্রাকের সংঘর্ষ হয়। এতে ১২ জনের মৃত্যু হয়। আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় বিভিন্ন ক্লিনিক, উপজেলা হসপিটাল, নাটোর সদর হসপিটাল ও রাজশাহী মেডিকাল কলেজ হসপিটালে পাঠানো হয়েছে। এদের মধ্যে বেশ কয়েক জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় মৃতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে। 

আব্দুস সালাম নামের এক যাত্রী জানান, পটুয়াখালীর কুয়াকাটা থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ যাচ্ছিল বাসটি। তিনি মাদারীপুরের মোস্তাকপুর থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ যাওয়ার জন্য রাত ৯টার সময় ওই বাসে ওঠেন। তার আসন ছিল পিছনের দিকে। গাড়িতে অতিরিক্ত যাত্রী ছিল। ভেতরে এত যাত্রী ছিল যে পা ফেলার জায়গা ছিল না। গাড়িটি অতিরিক্ত গতিতে চলতে ছিল। সময় সময় এমন ব্রেক করত আমরা আসন থেকে উপড়ে দিয়ে পরে যাচ্ছিলাম।
দুর্ঘটনা থেকে বেচে যাওয়া আরেক এক যাত্রীর বর্ণনা অনুযায়ী, যাত্রা বিরতির পর বাসটির চলাচল অস্বাভাবিক হয়ে পড়ে। চালককে তন্দ্রাচ্ছন্ন মনে হওয়ায় যাত্রীরা তাকে সতর্ক করেন। গাড়ির গতি কমিয়ে সাবধানে চালানোর অনুরোধও জানান তারা। কিন্তু অভিযোগ, যাত্রীদের সেই সতর্কবার্তা উপেক্ষা করেই বাস চালিয়ে যাচ্ছিলেন চালক। একপর্যায়ে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি বালুবোঝাই ট্রাকের সঙ্গে বাসটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। বিকট শব্দে সংঘর্ষের পর বাস ও ট্রাকের সামনের অংশ দুমড়ে মুচড়ে যায়। দুর্ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন ও উদ্ধার কর্মীরা আহতদের উদ্ধার করে বিভিন্ন হসপিটালে পাঠান।
স্থানীয়রা জানায়, ভোরে বিকট শব্দ পেয়ে সড়কে দৌড়ে এসে দেখি মানুষের আর্তনাদ। পরে নিজেরা ও পুলিশ-ফায়ার সার্ভিসের লোকজনকে খবর দিলে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করে এবং আহতদের দ্রুত বিভিন্ন হসপিটালে পাঠানো হয়। ভয়াবহ এই দুর্ঘটনার উদ্ধার তৎপরতার কারণে কিছু সময় নাটোর-পাবনা মহাসড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়।

দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পার্লামেন্টের হুইপ ও নাটোর-২ আসনের পার্লামেন্ট মেম্বার এডভোকেট রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, পার্লামেন্ট মেম্বার আব্দুল আজিজ, জেলা প্রশাসক সুমনী আক্তার, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শরীফুল হক, ইউএনও লায়লা জান্নাতুল ফেরদৌস ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) জুবায়ের জাহাঙ্গীর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এ সময় হুইপ রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু প্রধান মন্ত্রীর পক্ষ থেকে নিহতদের পরিবারকে এক লাখ টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেয়ার ঘোষণা দেন। একই সঙ্গে নাটোরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আবুল হায়াতকে প্রধান করে সাত সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটির গঠনের ঘোষণা দেন। অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আবুল হায়াতের নেতৃত্বে গঠিত কমিটিকে দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধান করে রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে। 
নাটোর বিআরটিএ কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনা কবলিত বাসটির ফিটনেস সনদের মেয়াদ চলতি বছরের ১৩ মে শেষ হয়েছে। তবে বাসটির রুট পারমিটের মেয়াদ রয়েছে ২০২৮ সালের ১৩ মে পর্যস্ত। ফিটনেসের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও বাসটি কিভাবে চলাচল করছিল, তা খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে।

পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, মহাসড়কে অন্য যানবাহনকে ওভারটেক করতে গিয়ে বাসটির সঙ্গে ট্রাকের সংঘর্ষ হয়ে থাকতে পারে। তবে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ তদন্তের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।
এর আগে ২০১৪ সালের ২০ অক্টোবর বনপাড়া-হাটিকুমরুল মহাসড়কে উপজেলার রেজুর মোড় এলাকায় দুই বাসের সংঘর্ষে ৩৮ জনের এবং ২০১৮ সালের ২৫ আগস্ট নাটোর-পাবনা মহাসড়কের কদমচিলান ক্লিকমোড় এলাকায় একটি যাত্রীবাহী বাস ও লেগুনার (হিউম্যান হলার) মুখোমুখি সংঘর্ষে ১৫ জন নিহত হন।

শেষ পাতা- এর আরোও খরব 
সম্পাদক ও প্রকাশক : শফিক রেহমান
অফিস:
যায়যায়দিন মিডিয়াপ্লেক্স
৪৪৬ ই+এফ+জি, লাভ রোড, তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল, ঢাকা ১২০৮
ইমেইল : [email protected]
বিভাগীয় ফোন:
অনলাইন নিউজ- ০১৩৩৫১০৭৭০১, ০১৫৭২১৭৩৭৭৭
বিজ্ঞাপন বিভাগ- ০১৯১২২৯২৩১৩, ০১৭১১১৭৫৩৩১
সার্কুলেশন বিভাগ- ০১৭১২৩৮০৩২৫, ০১৮৩৪৮০০৮৭৭
© ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত