প্রকাশ: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:০০ এএম আপডেট: ২৬.১০.২০২৬ ৫:১৯ পিএম (প্রিন্ট সংস্করণ)
* চক্রের সদস্যরা ঘন ঘন বাসা ও আস্তানা পরিবর্তন করত
* আপত্তিকর ছবি তুলে ছড়িয়ে দেয়ার হুমকিতে টাকা আদায়
* মোবাইল ফোন, ফাকা চেক ও নির্যাতনের সামগ্রী উদ্ধার
সোশাল মিডিয়ায় প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলে আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও ধারণ করে ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগে একটি চক্রের নারীসহ পাচ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। রবিবার (২৫ অক্টোবর) ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ডিবি প্রধান অতিরিক্ত কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম এ তথ্য জানান।
গ্রেফতাররা হলো- জিৎ ভক্ত ওরফে আব্দুর রহমান (৩৮), প্রীতম বিশ্বাস ওরফে অনিক শেখ (৩০), অর্থজীৎ ভক্ত ওরফে সিদ্ধার্থ (২০), সাবরিনা কবির প্রেমা ওরফে নেহা (২২) ও সাদিয়া ইয়াসমিন ওরফে মাহি (২১)। এদের মধ্যে জিৎ ভক্ত ওরফে আব্দুর রহমান চক্রটির মূল হোতা এবং প্রীতম তার ভাগনে ও সাবরিনা তার ভাগনের স্ত্রী বলে জানিয়েছে পুলিশ।
শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘হানি-ট্র্যাপ চক্রের নারীসহ পাচ সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। চার জন ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে দীর্ঘদিন ধরে চক্রটিকে শনাক্ত করতে গোয়েন্দা কার্যক্রম চালানো হচ্ছিল। চক্রের সদস্যরা ঘন ঘন বাসা ও আস্তানা পরিবর্তন করত। পাশাপাশি ভুয়া নিবন্ধিত সিম ব্যবহার করে সোশাল মিডিয়ায় বিভিন্ন একাউন্ট পরিচালনা করায় তাদের অবস্থান শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়েছিল। গোয়েন্দা নজরদারি ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তাদের অবস্থান নিশ্চিত করা হয়। পরে তুরাগ থানা এলাকার একটি আবাসিক ভবন থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে পাচটি মোবাইল ফোন, তিনটি ফাকা চেক, একটি টর্চার বেল্টসহ নির্যাতনের সামগ্রী উদ্ধার করা হয়।’
তিনি বলেন, ‘চক্রটির নারী সদস্যরা সোশাল মিডিয়ায় বিভিন্ন পরিচয় ও একাউন্ট ব্যবহার করে মধ্যবয়সী ও বয়স্ক, বিশেষ করে ব্যবসায়ী ও বিত্তশালী পুরুষদের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলতেন। পরে কৌশলে তাদের নির্ধারিত বাসা বা হোটেলে আসতে প্রলুব্ধ করতেন। ভুক্তভোগীরা সেখানে গেলে চক্রের পুরুষ সদস্যরা তাদের জিম্মি করে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও শারীরিক নির্যাতনের পাশাপাশি নারীদের সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় ছবি ও ভিডিও ধারণ করতেন। এসব ছবি ও ভিডিও সোশাল মিডিয়ায় ও ভুক্তভোগীদের আত্মীয়স্বজনের কাছে ছড়িয়ে দেয়ার হুমকি দিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা আদায় করতেন।’
ডিবি প্রধান আরো বলেন, ‘একবার টাকা আদায়ের পরও চক্রটি থেমে থাকত না। বিভিন্ন সময় ছবি ও ভিডিও প্রকাশের ভয় দেখিয়ে ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে আরো টাকা আদায় করা হতো। এ ঘটনায় গ্রেফতার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে তুরাগ থানায় মামলা করা হয়েছে বলেও জানিয়েছে ডিবি।’