* শিশুকে ‘যৌন নিপীড়ন’ শিশু যৌন নিপীড়নের অভিযোগ ও মাদ্রাসা ভাঙচুরের ঘটনায় পৃথক দুই মামলার তদন্ত চলছে :পুলিশ
* অপরাধের অভিযোগ থাকলে তার বিচার আইনি প্রক্রিয়ায় হতে হবে :এটর্নি জেনারেল
গাজীপুরের টঙ্গীতে সাত বছর বয়সী এক শিশুকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে গ্রেফতার মাদ্রাসার উপাধ্যক্ষ মোসলেম উদ্দিনের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত। রবিবার গাজীপুরের অতিরিক্ত চিফ মেট্রপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত শুনানি শেষে তার জামিন আবেদন নাকচ করেন। ফলে তাকে জেলেই থাকতে হচ্ছে। গাজীপুর মহানগর আদালতের পরিদর্শক আহসানুল্লাহ চৌধুরী এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, টঙ্গীর মধ্য আউচপাড়া এলাকার ক্বারীউল কুরআন ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসার প্রথম শ্রেণির এক ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ ওঠে উপাধ্যক্ষ মোসলেম উদ্দিনের বিরুদ্ধে। শিশুটির বাবার করা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখিয়ে বৃহস্পতিবার আদালতে পাঠানো হয়। ওই দিনই বিচারকের কাছে শিশুটির জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়।
গাজীপুর মেট্রপলিটন পুলিশের আদালত পরিদর্শক মো. আহসান উল্লাহ চৌধুরী জানিয়েছে, অভিযোগ তদন্তে মাদ্রাসা থেকে সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজসহ বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য পর্যালোচনা করে শিশুটিকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। তবে তদন্ত এখনো চলমান।
গত বুধবার মাদ্রাসায় গিয়ে শিশুটির বাবা অভিযুক্ত শিক্ষকের কাছে ঘটনার ব্যাখ্যা চান। এক পর্যায়ে শিক্ষককে মারধরের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে হেফাজতে নেয়। ঘটনাটির ভিডিও সোশাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা তৈরি হয়।
মাদ্রাসায় হামলা, ভাঙচুর, শিক্ষক-শিক্ষিকাদের মারধর এবং ১৭ লাখ টাকা ও পাচটি মোবাইল ফোন লুটের অভিযোগ তুলেছে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ। এসব অভিযোগে শিশুটির বাবা ও তার সঙ্গে থাকা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পৃথক মামলা করা হয়েছে। তবে শিশুটির বাবা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তার দাবি, মেয়ের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনার বিচার চাইতেই তিনি মাদ্রাসায় গিয়েছিলেন, হামলা বা লুটপাটের উদ্দেশ্যে নয়। তিনি নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত এবং মেয়ের প্রতি কথিত নিপীড়নের সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন। টঙ্গী পশ্চিম থানা পুলিশ জানিয়েছে, শিশু যৌন নিপীড়নের অভিযোগ এবং মাদ্রাসায় হামলা-ভাঙচুরের ঘটনায় দায়ের করা পৃথক দুইটি মামলার তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে আদালতে রিপোর্ট দেয়া হবে।
অপরাধের অভিযোগ থাকলে তার বিচার আইনি
প্রক্রিয়ায় হতে হবে : এটর্নি জেনারেল
টঙ্গীর মাদ্রাসায় সাত বছর বয়সী এক ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ এবং অভিযুক্ত শিক্ষককে মারধরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে তর্ক-বির্তকের মধ্যে নিজের মতামত দিয়েছেন এটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল। তিনি বলেছেন, ‘অপরাধের অভিযোগ থাকলে তার বিচার আইনি প্রক্রিয়ায় হতে হবে, কেউ নিজের হাতে আইন তুলে নিতে পারে না।’ একই সঙ্গে শিক্ষকদের প্রতি মানুষের শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা যেন কোনো আচরণের কারণে নষ্ট না হয় এবং শিশুরা যেন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিজেদের অনিরাপদ মনে না করে, সে বিষয়েও গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি। রবিবার নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এটর্নি জেনারেল বলেন, ‘বাংলাদেশে বিভিন্ন পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য সুনির্দিষ্ট আইন ও আইনি প্রতিকারের ব্যবস্থা রয়েছে।’ তার ভাষায়, আমার মনে হয় পৃথিবীতে খুব কম দেশ আছে যে দেশে এত বেশি আইন আছে। বাংলাদেশে এমন কোনো আইন নেই, যা প্রত্যেকটা সিচুয়েশনকে ডিল করে না। এটা একটা আশ্চর্য বিষয়।’
টঙ্গীর মধ্য আউচপাড়া এলাকার ক্বরীউল কুরআন ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসায় এক ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘যদি কোনো কারণে কোনো ব্যক্তি অপরাধ করে, সেই অপরাধের জন্য তিনি শাস্তি ভোগ করবেন। যদি কোনো কারণে তিনি অন্যায়ের শিকার হন, তাহলে তিনি নিরপরাধ হিসেবে স্বীকৃতি পাবেন। কারোরই নিজের হাতে আইন তুলে নেয়া উচিত নয়।’
শিক্ষকদের প্রতি মানুষের শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা অক্ষুণ্ন রাখার আহ্বান জানিয়ে এটর্নি জেনারেল বলেন, ‘শিশু-কিশোররা যেন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের কাছে নিজেদের অনিরাপদ মনে না করে, তা নিশ্চিত করতে হবে।’ শিক্ষকরা পিতা-মাতার বিকল্প অভিভাবক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এক বা দুইটি বিচ্ছিন্ন ঘটনার জন্য পুরো শিক্ষক সমাজকে লক্ষ্যবস্তু করা উচিত নয়।’
সন্তানের কোনো ক্ষতি হলে মা-বাবার আবেগ স্বাভাবিক বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তবে তার মতে, পুরো বিষয়টি আইনি কাঠামোর মধ্যেই সমাধান করা সম্ভব। এটর্নি জেনারেল বলেন, ‘তিনি জানতে পেরেছেন, গাজীপুরের ওই ঘটনায় মামলা হয়েছে এবং তা তদন্তাধীন। আইনি প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় সেখানেই ঘটনার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হবে বলে তিনি আশা করেন।’