নিরাপদ সড়ক পরিবহন কৌশল প্রণয়ন জরুরি

এডিটোরিয়াল

সড়কে প্রতিদিন গড়ে নিহত ৬৬ জন নিহত হচ্ছে। সড়ক দুর্ঘটনায় বছরে ৩০ লাখের বেশি মানুষ আহত হয়। তাদের মধ্যে প্রায়

2026-10-23T00:00:00+06:00
2026-10-23T17:14:07+06:00
রোববার ● ২৫ অক্টোবর ২০২৬
৯ কার্তিক ১৪৩৩
শিরোনাম:
এডিটোরিয়াল
নিরাপদ সড়ক পরিবহন কৌশল প্রণয়ন জরুরি
প্রকাশ: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:০০ এএম  আপডেট: ২৩.১০.২০২৬ ৫:১৪ পিএম (প্রিন্ট সংস্করণ)
সড়কে প্রতিদিন গড়ে নিহত ৬৬ জন নিহত হচ্ছে। সড়ক দুর্ঘটনায় বছরে ৩০ লাখের বেশি মানুষ আহত হয়। তাদের মধ্যে প্রায় ৩৮ হাজার মানুষ স্থায়ীভাবে পঙ্গুত্ববরণ করে কিংবা প্রতিবন্ধী হয়ে পড়ে। সেই হিসাবে প্রতিদিন গড়ে ১০৪ জন পঙ্গু বা প্রতিবন্ধী হচ্ছে। জাতীয় স্বাস্থ্য ও আঘাত জরিপ অনুসারে, দেশে প্রতি বছর বিভিন্ন কারণে প্রায় এক কোটি ৬৫ লাখ ৭৪ হাজার মানুষ প্রাণঘাতী নয়— এমন আঘাতের শিকার হয়। এরই মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয় ৩০ লাখ ৩১ হাজার ২৮ জন। অর্থাৎ প্রাণঘাতী নয়— এমন আঘাতের প্রায় ১৮ দশমিক তিন শতাংশের কারণ সড়ক দুর্ঘটনা। প্রতি এক লাখ মানুষের মধ্যে বছরে প্রায় এক হাজার ৮৩৫ জন সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়। জরিপে স্থায়ী পঙ্গুত্ববরণ কিংবা প্রতিবন্ধী হয়ে পড়ে- এমন দুর্ঘটনার দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতির চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। সড়ক দুর্ঘটনার সবচেয়ে গুরুতর পরিণতিগুলোর একটি স্থায়ী পঙ্গুত্ব বা প্রতিবন্ধী হয়ে পড়া। জরিপের হিসাবে, দেশে প্রতি বছর বিভিন্ন ধরনের আঘাতের কারণে এক লাখ ৩৮ হাজার ৬৮৯ জন স্থায়ীভাবে পঙ্গু বা প্রতিবন্ধী হয়। আহতদের বড় অংশই তরুণ, যুবক ও কর্মক্ষম ব্যক্তি। এর প্রভাব পরিবারেও পড়ছে।

জরিপে স্থায়ী প্রতিবন্ধীদের ক্ষেত্রে দৃষ্টিশক্তি, শ্রবণশক্তি, হাতের কার্য ক্ষমতা, চলাফেরা কিংবা মানসিক কার্য ক্ষমতা স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার বিষয়গুলো বিবেচনায় নেয়া হয়েছে। ২০২১ সালে রাজশাহীতে বাসের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে একটি মাইক্রোবাসে আগুন ধরে ১৭ জন মারা যায়। মাইক্রোবাসের যাত্রীরা সবাই একই পরিবারের সদস্য ছিল। 

বাংলাদেশের বিভিন্ন মহাসড়ক ও আঞ্চলিক সড়কে থাকা ঝুকিপূর্ণ বাকগুলো প্রতিনিয়ত প্রাণ কেড়ে নিচ্ছে, যেটা সাধারণ মানুষের কাছে মৃত্যুকূপ বা মৃত্যু ফাদে পরিণত হয়েছে। ঝুকিপূর্ণ বাকের প্রধান কারণসমূহ স্বাভাবিক সড়কের চেয়ে বাকগুলোতে প্রস্থ কম থাকা এবং বাইরের দিক উচু না থাকা।  বাকের দুই পাশে গাছপালা, বাড়িঘর বা দোকানপাট গড়ে ওঠায় সামনের গাড়ি বা রাস্তা দেখা যায় না। বাকের আগে পর্যাপ্ত রিফ্লেক্টর, সাইন বোর্ড বা গতিরোধক না থাকা। ডিভাইডারহীন সড়কে চালকদের বেপরোয়া গতি এবং আইন প্রয়োগের অভাব। কক্সবাজার মহাসড়কে  গত ১৮ মাসে অন্তত ২১৩ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। খুলনা-মোংলা মহাসড়কে রামপাল উপজেলার বেলাইব্রিজ এলাকায় বাস-মাইক্রোবাসের সংঘর্ষসহ চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে খুলনায় সড়ক দুর্ঘটনায় ৪৩৩ জন মারা গেছে। ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে প্রায় ৭০টি ঝুকিপূর্ণ বাক রয়েছে। লালমনিরহাট-বুড়িমারী মহাসড়ক মাত্র ১৮ ফিট প্রশস্ত, এই মহাসড়কে রয়েছে ৮৪টি বিপজ্জনক বাক। পুঠিয়া-বাঘা আঞ্চলিক মহাসড়কে থাকা ১৬টি ঝুকিপূর্ণ বাকে বছরে প্রায় ১৯০ জনের প্রাণহানি হয়।
দুর্ঘটনার কারণ সম্পর্কে সড়কের নকশা ও অবকাঠামোগত ত্রুটিকে দায়ী করেন রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমান। দেশের ৩১৪টি এলাকার বাইরেও দুর্ঘটনা ঘটছে, তবে সেটা প্রতিনিয়ত নয়। মূলত যেসব এলাকায় ধারাবাহিকভাবে দুর্ঘটনা ঘটছে, সেসব এলাকাকে বিবেচনায় নিতে হবে।

উল্লেখ্য, দেশে সড়ক-মহাসড়ক বিস্তৃত ও উন্নত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মোটরযান চলাচল বাড়ছে, বাড়ছে গতি। ফলে দুর্ঘটনা-প্রবণ এলাকা ক্রমেই বিস্তৃত হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে সরকারকে একটি নিরাপদ ও টেকসই সড়ক পরিবহন কৌশল প্রণয়ন করে সেটা বাস্তবায়নে কমিউনিটি পর্যায়ে মনোযোগ দিতে হবে। 
এডিটোরিয়াল- এর আরোও খরব 
সম্পাদক ও প্রকাশক : শফিক রেহমান
অফিস:
যায়যায়দিন মিডিয়াপ্লেক্স
৪৪৬ ই+এফ+জি, লাভ রোড, তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল, ঢাকা ১২০৮
ইমেইল : [email protected]
বিভাগীয় ফোন:
অনলাইন নিউজ- ০১৩৩৫১০৭৭০১, ০১৫৭২১৭৩৭৭৭
বিজ্ঞাপন বিভাগ- ০১৯১২২৯২৩১৩, ০১৭১১১৭৫৩৩১
সার্কুলেশন বিভাগ- ০১৭১২৩৮০৩২৫, ০১৮৩৪৮০০৮৭৭
© ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত