প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানপ্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম বীর নায়ক। স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রারম্ভে তাঁর কণ্ঠেই উচ্চারিত হয় স্বাধীনতা-যুদ্ধের আহ্বান। ১৯৭৫ সালের এক সংকটময় মুহূর্তে তিনি সেনাবাহিনীপ্রধান নিযুক্ত হন। অব্যবহিত পরে তাঁকে রাষ্ট্রপ্রধানের দায়িত্বভারও গ্রহণ করতে হয়। ক্ষমতা গ্রহণের পর তাঁর সামনে প্রধান চ্যালেঞ্জ ছিল বিশৃঙ্খল ও পর্যুদস্ত এক রাষ্ট্রে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা। কাজটা কতটা কঠিন ও দুরূহ সেটা আমরা ঐ সময়ের ইতিহাস পাঠ করলে বুঝতে পারব৷ সেনাবাহিনী ও দেশবাসীর কাছে জিয়াউর রহমানের গ্রহণযোগ্যতার প্রামাণ্য দলিল ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের বিপ্লবে তাঁর প্রতি সকলের অকুণ্ঠ আনুগত্য ও আস্থা।
আজ বহু বছর পর বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের সেই অস্থির অধ্যায়ের দিকে ফিরে তাকালে ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের ঘটনাবলি নতুন করে আলোচনার দাবি রাখে। কোনো রাষ্ট্রব্যবস্থায় রাজনৈতিক নেতৃত্ব যখন তার কর্তৃত্বের বৈধতা হারাতে থাকে এবং জনগণের সামগ্রিক স্বার্থ, আশা ও আকাঙ্ক্ষাকে কার্যকর রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ধারণ করতে ব্যর্থ হয়, তখন সমাজে বিভাজন, সংঘাত ও অস্থিরতা ক্রমশ তীব্র হয়ে ওঠে। সমাজবিজ্ঞানী Samuel P. Huntington এই ধরনের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে 'Praetorianism' ধারণার মাধ্যমে ব্যাখ্যা করেছেন। বাংলায় এর সরাসরি প্রতিশব্দ প্রচলিত না থাকলেও 'সামরিক হস্তক্ষেপপ্রবণ রাজনৈতিক পরিবেশ'কে এর একটি ব্যবহারিক ব্যাখ্যা হিসেবে দেখা যায়। Huntington এই পরিস্থিতির বৈশিষ্ট্য ব্যাখ্যা করতে লিখেছেন: 'The wealthy bribe, students riot, workers strike, mobes demonstrate and Military coup.'
১৯৭৫ সালের আগস্ট থেকে নভেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতাকে এই ধারণার আলোকে বিশ্লেষণ করলে তৎকালীন অস্থিরতার বিভিন্ন উপাদান স্পষ্ট হয়ে ওঠে। বিদেশি গবেষক Peter J. Bertocci এবং বাংলাদেশের রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমদ ও ড. মিজানুর রহমান শেলী তাঁদের নিজ নিজ আলোচনায় বাংলাদেশের সে সময়ের রাজনৈতিক পরিস্থিতির সঙ্গে 'Praetorianism'-এর সম্পর্কের কথা উল্লেখ করেছেন। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট তৎকালীন রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমান তাঁর পরিবারের অধিকাংশ সদস্যসহ এক নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার হন। রাজনৈতিক মতপার্থক্য, শাসনব্যবস্থার ব্যর্থতা ও জন-অসন্তোষ কোনো কিছুই এমন হত্যাকাণ্ডকে সমর্থনযোগ্য করে না। একটি জাতির রাজনৈতিক বিরোধ যখন রক্তপাতের মধ্য দিয়ে নিষ্পত্তির পথে যায়, তখন তার ক্ষত বহুদিন ধরে রাষ্ট্র ও সমাজের ওপর থেকে যায়।
তবে ইতিহাসকে বুঝতে হলে সেই সময়ের রাজনৈতিক বাস্তবতাকেও উপেক্ষা করা যায় না। স্বাধীনতার পর যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশকে পুনর্গঠনের দায়িত্ব ছিল অত্যন্ত কঠিন। অর্থনৈতিক সংকট, দুর্ভিক্ষ, প্রশাসনিক দুর্বলতা, আইনশৃঙ্খলার অবনতি এবং সরকারের বিভিন্ন বিতর্কিত রাজনৈতিক সিদ্ধান্তকে ঘিরে জনমনে ক্রমশ অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল। ১৯৭৫ সালে রাষ্ট্রব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন সেই অস্থিরতাকে আরও গভীর করে। ফলে ১৫ আগস্টের পর বাংলাদেশ প্রবেশ করে এক অনিশ্চিত ও অস্থির রাজনৈতিক অধ্যায়ে। রাষ্ট্রের এই সংকটময় সময়ে রাজনীতি ও সামরিক বাহিনীর সম্পর্কেও গভীর অবিশ্বাস তৈরি হয়। একের পর এক রাজনৈতিক পরিবর্তন, ক্ষমতার পালাবদল এবং অভ্যন্তরীণ টানাপোড়েন রাষ্ট্রের স্বাভাবিক গতিকে ব্যাহত করছিল। এমন এক পরিস্থিতিতে মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান ক্রমে জাতীয় রাজনীতির কেন্দ্রে চলে আসেন। প্রথমে সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে এবং পরবর্তীতে রাষ্ট্রপতি হিসেবে তিনি দেশের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন সংকটকালে সামনে এগিয়ে আসা এক দৃঢ়চেতা রাষ্ট্রনায়ক। তাঁর নেতৃত্বে বাংলাদেশ রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করে। অর্থনীতি পুনরুজ্জীবিত করা, উৎপাদন বাড়ানো, গ্রামীণ উন্নয়নকে গুরুত্ব দেওয়া এবং রাষ্ট্রীয় কর্মকাণ্ডে নতুন কর্মচাঞ্চল্য সৃষ্টির পাশাপাশি তিনি বহুদলীয় রাজনৈতিক ব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেন। তাঁর সময়ে জাতীয়তাবাদ, স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব এবং স্বনির্ভরতার প্রশ্নও নতুন রাজনৈতিক গুরুত্ব লাভ করে।
অবশ্য জিয়াউর রহমানের শাসনামলও বিতর্কের ঊর্ধ্বে নয়; তাঁর ক্ষমতায় আসার প্রক্রিয়া, সামরিক হস্তক্ষেপ এবং শাসনপদ্ধতি নিয়ে ইতিহাসে ভিন্ন ভিন্ন ব্যাখ্যা রয়েছে। তবু ১৯৭৫-পরবর্তী বাংলাদেশের গভীর সংকটের প্রেক্ষাপটে জিয়াউর রহমানের উত্থান ও রাষ্ট্র পরিচালনার ভূমিকা একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক অধ্যায়। সেই সময়কে বুঝতে হলে আবেগের পাশাপাশি প্রয়োজন ইতিহাসের জটিল বাস্তবতাকে স্বীকার করা। কারণ সংকটের অন্ধকার সময়েই অনেক সময় একজন নেতার রাজনৈতিক ভূমিকার প্রকৃত তাৎপর্য নতুন করে দৃশ্যমান হয়। জিয়াউর রহমান যদি তখন অন্ধকারে নিমজ্জিত জাতির হাল না ধরতেন, তাহলে তখন অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখাই কঠিন ব্যাপার হতো। জিয়াউর রহমান তখন ব্যারাকের বাইরে এসেছেন জাতির স্বার্থে, জাতীয় স্বার্থে। কী ঝুঁকি তিনি নিয়েছেন ভাবলে আশ্চর্য হতে হয়৷ রবীন্দ্রনাথের ভাষায়, 'আমৃত্যু দুঃখের তপস্যা এ জীবন, সত্যের দারুণ মূল্য লাভ করিবারে, মৃত্যুতে সকল দেনা শোধ করে দিতে।' জিয়াউর রহমান প্রাণের ও চাকরির তোয়াক্কা না করে বুক চিতিয়ে সামনে দাঁড়িয়েছেন বারবার।
একটি দীর্ঘস্থায়ী রাজনৈতিক সংকট যখন মানুষের মনে অনিশ্চয়তা ও নিরাপত্তাহীনতা তৈরি করে, তখন স্থিতিশীলতা ও কার্যকর কর্তৃত্বের আকাঙ্ক্ষা জোরালো হয়ে ওঠা অস্বাভাবিক নয়। বিশেষত রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্ব দুর্বল হয়ে পড়লে এই প্রবণতা আরও তীব্রতর হয়। সামরিক রাজনীতির ক্ষেত্রে এই প্রপঞ্চটির প্রকাশ অনেক সময় আরও প্রত্যক্ষভাবে দেখা যায়। আধুনিক সামরিক রাজনীতি নিয়ে লেখক Edward Fiet এমন পরিস্থিতিতে জনগণের প্রত্যাশিত স্বস্তিকে 'Welcome Relief' হিসেবে বর্ণনা করেছেন। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের সেই প্রেক্ষাপটে ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের সিপাহী-জনতার অভ্যুত্থানকে একটি পরিবর্তন-প্রক্রিয়া হিসেবে ব্যাখ্যা করার সুযোগ রয়েছে। এটি তৎকালীন অনিশ্চয়তা, সংঘাত ও রাজনৈতিক অস্থিরতার অবসান ঘটিয়ে একটি শক্তিশালী রাষ্ট্রীয় নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার পথ তৈরি করেছিল। সামরিক শাসনও যে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার উত্তম বিকল্প হতে পারে এটি তার প্রকৃষ্ট উদাহরণ। জিয়াউর রহমান সেটি বাস্তবায়িত করে দেখিয়েছেন।
৭ নভেম্বরের ঘটনাটি আরও একটি কারণে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ ছিল। উপমহাদেশের ইতিহাসে ১৮৫৭ সালের সিপাহী বিদ্রোহ ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে এক বৃহৎ সামরিক অভ্যুত্থানের স্মৃতি বহন করে। তার এক শতাব্দীরও বেশি সময় পর, বাংলাদেশের সেনাসদস্যদের একাংশ আবারও ব্যতিক্রমধর্মী ভূমিকা পালন করেন। প্রচলিত সামরিক শৃঙ্খলার সীমা অতিক্রম করে তাঁরা যে পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছিলেন, একটি পেশাদার সেনাবাহিনীর স্বাভাবিক কাঠামোর বিচারে তা ছিল নিঃসন্দেহে অস্বাভাবিক। তবে প্রয়োজন কখনো কখনো বৃহত্তর স্বার্থে ইতিবাচক অর্থেই নিয়মকে ছাপিয়ে যায়৷ Peter J. Bertocci-র আলোচনায় ঘটনাটিকে অভিহিত করা হয়েছে: 'Entirely a new story, a story never known or told before.'
৭ নভেম্বরের ঘটনাটি আরও একটি কারণে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ ছিল। উপমহাদেশের ইতিহাসে ১৮৫৭ সালের সিপাহী বিদ্রোহ ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে এক বৃহৎ সামরিক অভ্যুত্থানের স্মৃতি বহন করে। তার এক শতাব্দীরও বেশি সময় পর, বাংলাদেশের সেনাসদস্যদের একাংশ আবারও ব্যতিক্রমধর্মী ভূমিকা পালন করেন। প্রচলিত সামরিক শৃঙ্খলার সীমা অতিক্রম করে তাঁরা যে পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছিলেন, একটি পেশাদার সেনাবাহিনীর স্বাভাবিক কাঠামোর বিচারে তা ছিল নিঃসন্দেহে অস্বাভাবিক। তবে প্রয়োজন কখনো কখনো বৃহত্তর স্বার্থে ইতিবাচক অর্থেই নিয়মকে ছাপিয়ে যায়৷ Peter J. Bertocci-র আলোচনায় ঘটনাটিকে অভিহিত করা হয়েছে: 'Entirely a new story, a story never known or told before.'জিয়াউর রহমান সেদিন যদি এগিয়ে না আসতেন, তাহলে হয়তো আমাদেরকে আবার সেই 'inrernal colonialism' এর শিকার হতে হতো। নিজের হাতে সমস্ত দায়িত্ব তুলে নিয়ে তিনি আবির্ভূত হয়েছিলেন জাতির ত্রাতা হিসেবে। সামরিক একজন জেনারেল এভাবেই হয়েছিলেন গণতন্ত্রের রক্ষাকর্তা। জনগণ তাঁকে ভালোবেসেছে, বিশ্বাস করেছে। তাঁকে নেতা হিসেবে মেনে নিয়েছে। সামরিক রাষ্ট্রপতি থেকে তাঁকে বেসামরিক রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করেছিল এদেশের সাধারণ জনগণই।
জনগণ ক্রমশ জিয়াউর রহমানের প্রতি তাদের আস্থার জায়গা সংহত করেছে। ১৯৭৭ সালের ৩০ মে অনুষ্ঠিত গণভোটে আপামর জনসাধারণ উৎসাহ ও উদ্দীপনার সঙ্গে গণভোটে অংশগ্রহণ করেন এবং প্রেসিডেন্ট মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানের ১৯ দফার পক্ষে ইতিবাচক ভোট প্রদান করেন। প্রেসিডেন্ট জিয়ার নীতি ও কর্মসূচির পক্ষে ৩ কোটি ৩০ লাখ ২১ হাজার ৬ শত ৮৪ টি হাঁ ভোট পড়ে৷ জিয়ার নীতি ও কর্মপন্থার প্রতি অকুণ্ঠ সমর্থনের ফলে গণতান্ত্রিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার পথ প্রশস্ত হয়।
আজ এত বছর পর ফিরে তাকালে সেই ঐতিহাসিক গণভোটের দিনটির তাৎপর্য নতুন করে উপলব্ধি করা যায়। জাতীয় জীবনের এক গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে জনগণই যে রাষ্ট্রক্ষমতার প্রকৃত উৎস -- সেদিনের গণভোট যেন তারই একটি দৃশ্যমান সাক্ষ্য হয়ে উঠেছিল। প্রেসিডেন্ট জিয়ার ১৯ দফা কর্মসূচির প্রতি বিপুল জনসমর্থন শুধু একটি রাজনৈতিক কর্মসূচির প্রতি আস্থার প্রকাশ ছিল না; এর মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রের উন্নয়ন-প্রচেষ্টায় জনগণের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণের প্রত্যাশাও স্পষ্ট হয়ে উঠেছিল।
সেই সময়ের প্রেক্ষাপটে প্রেসিডেন্ট জিয়ার সামনে ছিল দেশ ও জাতির অগ্রযাত্রার গুরুদায়িত্ব। ১৯ দফা কর্মসূচিকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার জন্য প্রয়োজন ছিল সুপরিকল্পিত পদক্ষেপ, ধারাবাহিক প্রয়াস এবং সর্বোপরি জনগণের সক্রিয় সহযোগিতা। আজকের দৃষ্টিতে ফিরে দেখলে বোঝা যায়, সেই গণভোটের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বার্তা ছিল সরকার ও জনগণের পারস্পরিক অংশীদারিত্বের ধারণা। জাতীয় উন্নয়ন যে সরকার ও জনগণের সম্মিলিত প্রয়াসের ফল -- সেই উপলব্ধিই তখনকার রাজনৈতিক বাস্তবতায় বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছিল। ইতিহাসের পাতা উল্টালে তাই সেই গণভোট একটি বিশেষ সময়ের রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষা ও জনসম্পৃক্ততার স্মারক হিসেবেই ধরা দেয়। এদেশে যতদিন গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত থাকবে, ততদিনই বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তক জিয়াউর রহমানের কাছে ফিরতে হবে সকলকে। তথাকথিত সামরিক শাসক তকমা দিয়ে এই জোয়ার রুদ্ধ করা যাবে না।
জিয়াউর রহমান সামরিক বাহিনী থেকে রাজনীতিতে এসেছিলেন। স্বাধীনতার ঘোষণা থেকে মৃত্যু পর্যন্ত তাঁর জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে নানা পরিবর্তন ও রাজনৈতিক রূপান্তর ঘটেছে; কিন্তু সামরিক পরিচয় ও সামরিক পোশাক ব্যতিরেকে এ পর্বগুলোতে অংশগ্রহণের কোনো সুযোগই ছিল না তাঁর। যে কারণে এ পরিচয় তাঁর ব্যক্তিসত্তা ও নেতৃত্বের ইতিহাস থেকে বিচ্ছিন্ন হয়নি। তিনি সামরিক পোশাক পরেই বাংলাদেশের রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছিলেন এবং সেই অবস্থান থেকেই রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করেন। সেই সময়ের অস্থির রাজনৈতিক বাস্তবতায় সামরিক কাঠামোর ভেতর থেকেই তিনি বহুদলীয় রাজনৈতিক ব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তনের উদ্যোগ নেন এবং রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের পরিসরকে বিস্তৃত করেন। তবে যখনই সুযোগ এসেছে তিনি এ পরিচয়কে অতিক্রম করেছেন। জনগণের গণরায়ে বিজয়ী হয়ে তিনি বেসামরিক প্রেসিডেন্টও হয়েছেন। ফলে তাঁর সামরিক পরিচয় ও রাজনৈতিক ভূমিকা একই ঐতিহাসিক বাস্তবতার দুটি দিক। কাজেই তাঁর শাসনকালের যেটুকু সামরিক শাসন ছিল সেটুকু গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ও বিকাশের জন্যই অনিবার্য ছিল।
লেখক পরিচিতি:
সুহৃদ সাদিক
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও প্রাবন্ধিক