প্রকাশ: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:০০ এএম আপডেট: ২৩.১০.২০২৬ ৪:৪৯ পিএম (প্রিন্ট সংস্করণ)
মিরিঞ্জা ভ্যালিতে দর্শনার্থীরা —যাযাদি দুর্গা পূজার টানা পাচ দিনের ছুটিতে বান্দরবানের লামা উপজেলার চোখ জুড়ানো পাহাড় ও মেঘের রাজ্য ‘মিরিঞ্জা ভ্যালি’ রেঞ্জে পর্যটকদের ঢল নেমেছে। সমুদ্র পৃষ্ঠ থেকে প্রায় এক হাজার ৮০০ ফুট উচুতে অবস্থিত এই পাহাড়ি ভ্যালিতে ভোরের শুভ্র মেঘের মিতালী, রোমাঞ্চকর সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে হাজার হাজার ভ্রমণপিপাসু মানুষ ভিড় জমিয়েছেন।
পর্যটকদের মতে, ভোর বেলায় মিরিঞ্জা পাহাড়ে দাড়িয়ে সাজেক ভ্যালির মতো মেঘের ওপর ভেসে বেড়ানোর অপূর্ব অনুভূতি পাওয়া যায়। ভৌগোলিক সুবিধাজনক অবস্থান এবং কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের বেশ কাছাকাছি হওয়ায় পর্যটকরা এখন মিরিঞ্জাকে নতুন জনপ্রিয় গন্তব্য হিসেবে বেছে নিচ্ছেন। এতে একই ভ্রমণে পাহাড়ের শান্ত-স্নিগ্ধ প্রকৃতি এবং সমুদ্র সৈকতের রূপ উপভোগের দারুণ সুযোগ তৈরি হয়েছে।
পর্যটকদের এই বাড়তি চাপ সামলাতে লামার মিরিঞ্জা ও সুখিয়া পাহাড় এলাকা জুড়ে গড়ে ওঠা অর্ধশতাধিক রিসোর্ট ও কটেজ জমজমাট হয়ে উঠেছে। মারাইংছা হিল রিসোর্ট, মিরিঞ্জা ভ্যালি রিসর্ট, ডেঞ্জার হিল, মেঘ কুঞ্জ, ডিজুড়ি, বেইজ ক্যাম্প, ইকো রিসোর্ট, মেঘ মাচাং রিসোর্ট, চুংদারবক রিসোর্ট, সানসেট রিসোর্ট, আগারণ, মিরিঞ্জা হ্যাভেন রিসর্ট, রয়েল রিসোর্ট, লাতং, পাইংতং রিসোর্ট, অরণ্য রিসোর্ট ও অনন্যা রিসর্ট ছাড়াও স্থানীয় পাহাড়ি কাঠের কটেজ ও জুমঘরগুলোতে শতভাগ আগাম বুকিং নিশ্চিত হয়েছে। এর ফলে স্থানীয় জনগোষ্ঠী পরিবার ও পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের আয় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন গতি এসেছে।
লামা রিসর্ট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. সাদেকুর মওলা ধ্রুব জানান, ‘পূজার ছুটির প্রথম দুই দিনেই অন্তত পাচ হাজার পর্যটক মিরিঞ্জা ও সুখিয়া পাহাড় পরিদর্শনে এসেছেন।’
উল্লেখ্য, ২০০৩ সালে পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গোড়াপত্তন হওয়া লামার এই ঐতিহ্যবাহী মিরিঞ্জা পাহাড় থেকে একদিকে যেমন দূর দিগন্তের পাহাড়ি আকাবাকা মাতামুহুরী নদী ও বান্দরবানের বিস্তীর্ণ পাহাড় শ্রেণী দেখা যায়, তেমনি অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এই এলাকার পর্যটন খাতকে প্রতিনিয়ত সমৃদ্ধ করছে।