ছবি-যাযাদি সরকারি দপ্তরের নির্ধারিত কর্মঘণ্টা ও দাপ্তরিক নিয়মনীতি যথাযথভাবে অনুসরণ না করার অভিযোগ উঠেছে নেত্রকোণার মদন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) হুমায়ুন কবিরের বিরুদ্ধে। কর্মদিবসে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত অফিসে উপস্থিত থাকার নিয়ম থাকলেও তিনি নিয়মিত কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকেন বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় সেবাপ্রার্থীরা।
বৃহস্পতিবার মদন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ে সরেজমিনে গিয়ে এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের চেষ্টা করা হয়। সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত একাধিকবার কার্যালয়ে গিয়ে পিআইও হুমায়ুন কবিরকে পাওয়া যায়নি। এ সময় তার দপ্তরের কক্ষে কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী না থাকলেও ফ্যান চলতে এবং একাধিক বাতি জ্বলতে দেখা যায়।
স্থানীয় কয়েকজন সেবাপ্রার্থীর অভিযোগ, প্রয়োজনীয় সরকারি সেবা ও দাপ্তরিক কাজে পিআইওর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে এসে অনেক সময় তাদের দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়। পরে কর্মকর্তাকে না পেয়ে ফিরে যেতে হয়। এতে সময় ও অর্থের অপচয়ের পাশাপাশি সরকারি সেবা গ্রহণেও বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে তাদের।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সেবাপ্রার্থী জানান, বৃহস্পতিবার সকালে তারা পিআইওর কার্যালয়ে আসেন। দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করার পরও কর্মকর্তার দেখা না পাওয়ায় তারা হতাশ হয়ে ফিরে যান।
অভিযোগ রয়েছে, প্রতি বৃহস্পতিবার পিআইও হুমায়ুন কবির ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকেন।
পিআইওর অনুপস্থিতির বিষয়ে কার্যালয়ে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাছে জানতে চাইলে তারা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। পরে পিআইও হুমায়ুন কবিরের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। পরে ক্ষুদে বার্তা পাঠিয়ে বক্তব্য জানতে চাওয়া হলেও প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে মদন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাদির হোসেন শামীম বলেন, “কর্তৃপক্ষের ছুটি না নিয়ে কর্মঘণ্টায় অনুপস্থিত থাকা কোনোভাবেই সমীচীন নয়। বিষয়টি আমি দেখছি।
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা রুহুল আমিন বলেন, পিআইও হুমায়ুন কবির আজ আমার কাছ থেকে কোনো ছুটি নেননি। তবে তিনি খালিয়াজুরিতে থাকতে পারেন।”
পরে খালিয়াজুরি উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ে যোগাযোগ করা হলে সেখানকার অফিস সহকারী জানান, হুমায়ুন কবির সেখানেও উপস্থিত নেই।
এদিকে সরকারি দপ্তরে নির্ধারিত কর্মঘণ্টা নিশ্চিত করা এবং সেবাপ্রার্থীদের ভোগান্তি নিরসনে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। একই সঙ্গে কর্মস্থলে কর্মকর্তাদের উপস্থিতি ও দাপ্তরিক কার্যক্রম যথাযথভাবে পরিচালিত হচ্ছে কি না, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারির আওতায় আনারও দাবি জানান তারা।