প্রকাশ: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:০০ এএম আপডেট: ২৬.১০.২০২৬ ৫:২২ পিএম (প্রিন্ট সংস্করণ)
এবারের দুর্গা পূজায় দেশের কোথাও সনাতন ধর্মাবলম্বীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেননি এবং উৎসবমুখর পরিবেশে পূজা উদযাপিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ পূজা উদযাপন ফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক মিল্টন বৈদ্য। তিনি বলেন, ‘কোনো প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই দেশ জুড়ে এমন শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পূজা উদযাপন বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক ইতিহাসে এক অনন্য দৃষ্টান্ত সৃষ্টি হয়েছে। কোনো হিন্দু এবারের পূজায় নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেনি।’
রবিবার (১৫ অক্টোবর) জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী মিলনায়তনে পূজা উদযাপন ফ্রন্ট আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
লিখিত বক্তব্যে মিল্টন বৈদ্য বলেন, ‘বিগত দিনে যারা নিজেদের সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ‘পরম বন্ধু’ বলে দাবি করতেন, তা কেবল মুখের কথার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। কিন্তু বর্তমান বিএনপি সরকার এবং প্রধান মন্ত্রী তারেক রহমান বাস্তবে তা প্রমাণ করে দিয়েছেন।’
তিনি বলেন, প্রধান মন্ত্রী ঘোষিত ‘ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার; নিরাপত্তা পাওয়ার অধিকার সবার’ এই উক্তিটি কেবল কোনো রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি ছিল না, বরং তিনি কাজের মাধ্যমে এর যথার্থতা প্রমাণ করেছেন। এবারের পূজায় সনাতন ধর্মের মানুষ বিন্দুমাত্র নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেননি, যা উৎসবের আনন্দকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।’
পূজা উদযাপন ফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘হিন্দু সম্প্রদায় এবার রাষ্ট্রীয়ভাবে যে পরিমাণ আর্থিক সহযোগিতা প্রত্যাশা করেছিল, সরকার সেই বরাদ্দের পরিমাণ প্রায় দ্বিগুণ করে দিয়েছে। শুধু তাই নয়, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সার্বজনীন আনন্দের চাওয়াকে সম্মান জানিয়ে বর্তমান সরকার যে কোনো সময়ের তুলনায় এবার ছুটি বৃদ্ধি করেছে। আমরা এবার পাচ দিন ছুটি পেয়েছি। ফলে সাধারণ মানুষ ও কর্মকর্তা-কর্মচারিরা দীর্ঘ সময় ধরে পরিবারের সঙ্গে উৎসবের আমেজ ভাগাভাগি করতে পেরেছেন।’
তিনি আরো বলেন, ‘বিগত সময়ে সরকার প্রধানরা ঢাকায় পূজা মণ্ডপ পরিদর্শন করতেন। কিন্তু প্রধান মন্ত্রী তারেক রহমান দেশের বিভিন্ন পূজা মণ্ডপ পরিদর্শন করেছেন। সনাতন ধর্মের মানুষের দ্বারে দ্বারে গিয়ে শুভেচ্ছা বিনিময় ও খোজখবর নেয়ার এই আন্তরিক অভিভাবকসুলভ উদ্যোগ পুরো জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করেছে।’
পূজার সময় নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিষয়ে মিল্টন বৈদ্য বলেন, “পূজায় সরকার তিন স্তরের নিরাপত্তা বলয় নিশ্চিত করেছে। পুলিশ, র্যাব, আনসার ও অন্যান্য বাহিনীর সমন্বয়ে সারা দেশে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছিল। সিসিটিভি ক্যামেরা এবং কঠোর গোয়েন্দা নজরদারির কারণে পূজার্থীরা শান্তিতে, নিশ্চিন্তে পূজা অর্পণ করতে পেরেছেন। এছাড়া, উৎসবের আগে ও পরে যে কোনো ধরনের অপপ্রচার বা ধর্মীয় উসকানির বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি সাধারণ নাগরিক ও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মনে আস্থা ফিরিয়ে এনেছে।”