প্রকাশ: শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:১৬ পিএম
ছবি-যাযাদিনেত্রকোণার কেন্দুয়া উপজেলায় বাকিতে সিগারেট না দেওয়াকে কেন্দ্র করে একটি মনোহারি দোকানে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সুমন মিয়ার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় দোকানমালিক ইব্রাহিম খলিল (৪৫) গুরুতর দগ্ধ হয়েছেন। আগুনে দোকানের অধিকাংশ মালামাল পুড়ে গেছে।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার সান্দিকোনা ইউনিয়নের সাহিতপুর বাজারে এ ঘটনা ঘটে।
দগ্ধ ইব্রাহিম খলিল সান্দিকোনা ইউনিয়নের চেংজানা গ্রামের সুলতান মিয়ার ছেলে। তিনি সাহিতপুর বাজারে একটি মনোহারি দোকান পরিচালনা করতেন। অভিযুক্ত সুমন মিয়াও একই গ্রামের বাসিন্দা। তিনি কাদের নেওয়াজের ছেলে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সুমন প্রায়ই ওই দোকান থেকে বাকিতে বিভিন্ন পণ্য নিতেন এবং টাকা পরিশোধ করতেন না বলে অভিযোগ রয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে তিনি দোকানে এসে আবারও বাকিতে সিগারেট চান। তবে দোকানি ইব্রাহিম খলিল বাকিতে সিগারেট দিতে রাজি না হওয়ায় দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, একপর্যায়ে সুমন দোকানের সামনে বিক্রির জন্য রাখা একটি বোতল থেকে পেট্রোল নিয়ে দোকানের ভেতরে ছিটিয়ে দেন বলে অভিযোগ ওঠে। পরে সেখানে আগুন ধরিয়ে দিলে মুহূর্তের মধ্যেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় দোকানের ভেতরে থাকা ইব্রাহিম খলিলের শরীরের বিভিন্ন অংশ ঝলসে যায়। একই সঙ্গে দোকানের অধিকাংশ মালামাল পুড়ে যায়।
সান্দিকোনা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী নজরুল ইসলাম বলেন, আগুনে ইব্রাহিম খলিলের শরীরের বিভিন্ন অংশ ঝলসে গেছে। তাঁর অবস্থা অত্যন্ত গুরুতর।
ঘটনার পর বাজারের লোকজন দ্রুত এগিয়ে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। পরে দগ্ধ ইব্রাহিম খলিলকে উদ্ধার করে কেন্দুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর তাঁর অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকেরা তাঁকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য স্বজনেরা তাঁকে ঢাকায় নিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করেন।
কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগীর পরিবারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বাকিতে সিগারেট না দেওয়াকে কেন্দ্র করেই সুমনের সঙ্গে ইব্রাহিম খলিলের বাগ্বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে দোকানের সামনে থাকা পেট্রোল নিয়ে দোকানে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
ওসি আরও বলেন, ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত সুমন পলাতক রয়েছেন। তাঁকে গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে। দগ্ধ ইব্রাহিম খলিলের স্বজনেরা বর্তমানে ঢাকায় তাঁর চিকিৎসায় ব্যস্ত রয়েছেন। তাঁরা এলাকায় ফিরে থানায় মামলা করবেন বলে পুলিশকে জানিয়েছেন।